মুরাদনগরের শ্রীকাইলে নেশাগ্রস্ত চেয়ারম্যান নজরুলের কান্ড

মুরাদনগরের শ্রীকাইলে নেশাগ্রস্ত চেয়ারম্যান নজরুলের কান্ড

ডেক্স রিপোর্ট : কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের নেশাগ্রস্ত জীবন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তার এক ছবিতে দেখা যাচ্ছে তিনি বিদেশী মদের বোতল হাতে বসে আছেন। পাশে বসে আছে অন্য আরেকজন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে তিনি একজন নেশাগ্রস্ত চেয়ারম্যান, এতে কোন সন্দেহ নেই। জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ উঠে এবং অধিকাংশ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এর আগেও তিনি বিভিন্নভাবে ভাইরাল হয়েছেন। এবার তিনি ভাইরাল হলেন নেশাগ্রস্ত চেয়ারম্যান হিসেবে।

জানা যায়, জেলার মুরাদনগর উপজেলার ১নং শ্রীকাইল ইউনিয়ন থেকে নির্বাচিত হন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। শপথ গ্রহণ ও দায়িত্ব লাভের পর থেকেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। তিনি এখন এলাকায় রীতিমতো মূর্তিমান আতংক। নজরুল ইসলাম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অরাজকতার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তার বিরুদ্ধে সীমাহিন দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। একটি জন্ম সনদ তৈরি করতে বা ডিজিটালাইজেশন করতে সরকার নির্ধারিত ফি মাত্র ৫০ টাকা হলেও তিনি নিচ্ছেন ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা। তার দূর্নীতি যেন কোনভাবেই থামছে না। তার বিরুদ্ধে কোন কথা বললে স্থানীয়দের নানা হুমকি-ধামকিসহ হয়রানী করেন। এমনকি মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোর হুমকিও দেন তিনি। স্থানীয় এমপির সাথে তার ঘনিষ্ট সম্পর্ক থাকায় তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী দাড়াতে পারছে না।

তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর পরই চন্দনাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে মারধর করেন এবং পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর রেখে স্কুল থেকে বিতারিত করেন।

এভাবেই তার চলছে অরাজকতা, দূর্নীতি ও অনিয়মের জীবন। তার এ আচরণে অতিষ্ঠ ইউনিয়নবাসী। তার বিরুদ্ধে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের নিকট কয়েক দফা অভিযোগ গেলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

এ বিষয়ে শ্রীকাইল ইউপির সচিব জোসনা বেগম সীমান্ত সংবাদকে জানান, মদ পান করা ও নেশা করা তার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে চেয়ারম্যান সাহেবের কোন খারাপ দিক আমার চোখে পড়ে নি।

নেশাগ্রস্থ, দূর্নীতি, অনিয়মের বিষয়ে শ্রীকাইল ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সীমান্ত সংবাদকে জানান, গত দু বছরের কোন মদ বা বিয়ার আমি খাইনি। আর যে ছবি আপনারা পেয়েছেন তা আমার কিনা তাতে সন্দেহ আছে। দূর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি। জন্ম সনদ তৈরি ও চারিত্রিক সনদ করতে ৫০০-১০০০ টাকা নেওয়ার বিষয়টি বরাবরের মতো এবারও তিনি অস্বীকার করেন।

এ ব্যাপারে মুরাদনগর উপজেলা নিবার্হী অফিসার (ইউএনও) অভিষেক ঘোষ সীমান্ত সংবাদকে জানান, মদ খাওয়ার বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। নিরপেক্ষতার বজায় রেখে আমার তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্হা গ্রহণ করবো। দুর্নীতির বিষয়ে তিনি জানান, কেউ যদি আমাদের অফিসে এসে অভিযোগ করে তাহলে আমরা তার নাম গোপন রেখে তদন্ত সাপেক্ষে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তার বিরুদ্ধে কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ করেনি বলে আমরা কিছুই করতে পারছি না।

Categories: কুমিল্লা

Tags: