সাংবাদিকতার অন্তরালে বিদেশে ইয়াবা পাচার ; গোয়েন্দাদের হাতে আটক শামীম

সাংবাদিকতার অন্তরালে বিদেশে ইয়াবা পাচার ; গোয়েন্দাদের হাতে আটক শামীম

স্টাফ রিপোর্টার ; কুমিল্লার আন্তর্জাতিক ইয়াবা কারবারিদের নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে করতে একসময় নিজেই জড়িয়ে পরেছেন সেই মাফিয়া চক্রের সাথে। বিদেশে ইয়াবা পাচারের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে নিজের পেশা সাংবাদিকতাকে অপব্যবহার করেছেন তিনি। কুমিল্লার শীর্ষ আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারীদের তথ্য যোগার করে সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়েও নিয়েছে এই পরিচয়ধারী সাংবাদিক শামীম আহম্মেদ। শুধু ইয়াবা কারবারই নয়, প্রশাসনের অসাধু কিছু কর্মকর্তার সাথে শখ্যতার জেরে তাদের ব্যবহার করে ব্যবসায়ী ও সাধারন মানুষকে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়ে সর্বশান্ত করেছেন অনেককে। আবার মামলার ভয় দেখিয়ে প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের থেকে হাতিয়েও নিয়েছেন লাখলাখ টাকা। বিকাশের মধ্যমে বিদেশের মাদক বিক্রেতা প্রবাসীদের অনেকের কাছ থেকেই নিয়মিত টাকা (মাসোয়ারা) নিতেন শামিম। শুধু মাসোয়ারা নিয়েই তৃপ্ত হতে পারেনি শামীম, বেশী টাকার আশায় জড়িয়ে পরে মাদকের কারবারে। মূলত সাংবাদিকতার অন্তরালে মাদক ব্যবসার গড ফাদারদের একজন এই শামীম আহম্মেদ। আন্তর্জাতিক ইয়াবা কারবারি কালির বাজর কমলাপুর এলাকার আরিফ, ইয়াসিন, ডাব সালাম, নাজিরা বাজার এলাকার অরুণ ও নগরীর শীর্ষ মাদক কারবারি চাচা রহিম সহ শীর্ষ মাদক কারবারিদের সাথে শামীমের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলেও জানা যায়।

কুমিল্লা নগরীর ২য় মুরাদপুর ১৪ নং ওয়ার্ড এলাকার সাদেক আহম্মেদের পুত্র শামীম আহম্মেদ কুমিল্লার কয়েকটি স্থানীয় দৈনিক ও জাতীয় পত্রিকা সহ এসটিভি বাংলা নামে একটি অনলাইন টেলিভিশনে সাংবাদিকতা করতেন বলে জানা গেছে। সাংবাদিক শামীম আহম্মেদ কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সদস্য। এছাড়াও নিয়মিত মাদক ও ইয়াবা সেবনকারী শামীম মাদক সেবনকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বেশ কয়েকবার আটক হয়ে মুচেলাকা দিয়ে ছাড়া পায়।

ডিবি পুলিশের এলআইসি টিমের এস আই পরিমল চন্দ্র (পিপিএম) জানান,
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি স্পেশাল টিম দীর্ঘদিন ধরেই হাতেনাতে ধরতে নজরে রেখেছিলো তাকে। গতকাল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর ধর্মপুর এলাকার জনতা ব্যাংকের সামনে থেকে এস আই ইখতিয়ার উদ্দিন ও এস আই পরিমল সহ সঙ্গীয় ফোর্স একটি সিলভার কালার প্রাইভেটকার নং চট্রঃ মেট্রোঃ ১২-৪১০০ সহ তাকে গ্রেপ্তার করে। এসময় উপস্থিত লোকজনের সামনে কথিত সাংবাদিক শামীমের দেহ তল্লাশী করে তার পেন্টের পকেট থেকে ৩হাজার, এবং চালকের আসনের নিচ থেকে আরো ২ হাজার সহ মোট ৫ হাজার পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। এসময় জিজ্ঞাসাবাদে শামীম স্বীকার করে, ইয়াবাগুলো একজনের কাছে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে এসেছিলেন। আটক ইয়াবা কারবারি শামীম আহম্মেদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে সাংবাদিক পরিচয়ধারী শামীম আহম্মেদ গ্রেফতারের খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পরলে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব, ওমান, কাতার, মলোয়েশিয়া সহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসী সহ দেশের সাধারণ নাগরিকদের থেকে তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আসতে শুরু করে। অনেকেই আবার খুশি হয়ে মিষ্টি বিতরণের ঘোষণাও দিয়েছেন ফেসবুক স্টাটাসে। ভুক্তভোগীদের একজন সদর উপজেলার কালির বাজার মাঈনুদ্দিন মার্কেটের মালিক মাঈনুদ্দিন বলেন, পাপ বাপকেও ছাড়ে না এটা আবারো প্রমানিত হলো। এই শামীম আমার কাছে দুই লাখ টাকা দাবী করে তাকে টাকা না দেয়ায়, প্রতিপক্ষের সাথে মিলে মার্কেটে আমার অফিস কক্ষে নিজে ইয়াবা রেখে ডিবি পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেয় আমাকে। কালির বাজার এলাকার সৌদি আরব প্রবাসীদের একজন মফিজ মিয়া আটকের খবরে মন্তব্য করে বলেন, অবশেষে ভুয়া সাংবাদিক ইয়াবা কারবারি তাহলে আটক হলো। তিনি ধন্যবাদও জানান জেলা গোয়েন্দা প্রশাসনকে। দেশে এবং প্রবাসে এমন আরো অনেকেই রয়েছেন যারা বিভিন্ন ভাবে শামীমের হাতে হয়রানি ও চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন বলে জানিছেন ।

Categories: কুমিল্লা

Tags: