সাতক্ষীরায় সাংবাদিকের উপর হামলা : নিজেকে রক্ষা করতে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :  সাতক্ষীরায় সাংবাদিক ফারহাদের উপর হামলা মামলার ১নং আসামী  নিজেকে রক্ষা করতে নিজেই বাদি হয়ে সাংবাদিকের নামে মিথ্যা মামলা করেছেন।

এঘটনায় আশাশুনিসহ সাতক্ষীরার সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। অথচ উক্ত হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী আশাশুনি থানার বসুখালী গ্রামের হামিদুল্লা গাজীর পুত্র সাংবাদিক হাবিবুল বাশার (ফারহাদ) এর মাতা ২৮ জুলাই ২০১৯ তারিখে আশাশুনি থানায় ৯ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ২৮।

মামলা দায়ের হওয়ার পর আসামীরা পলাতক রয়েছে বলে পুলিশ অবহিত করেন। কিন্তু ফারহাদ এর মায়ের দায়ের করা মামলার ৫দিন পর ১ আগস্ট ২০১৯ তারিখে ওই মামলার প্রধান আসামী একই গ্রামের ফারুক হোসেন কে বাদী করে মামলা রেকর্ড করেন আশাশুনি থানা পুলিশ। সেখানে সাংবাদিক ফারহাদসহ ৭ জন কে আসামী করা হয়েছে।

এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পলাতক থাকা ১ নং আসামী কিভাবে কাউন্টার মামলার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করতে পারেন? শুধু তাই নয় আসামীদের করা মামলায় ইতোমধ্যে হামলার শিকার ফারহাদের বন্ধু হামিদুলকে আটকও করে আশাশুনি থানা পুলিশ। অথচ ফারহাদের মাতার দায়েরকরা মামলায় কাউকে এখনো পর্যন্ত আটক করা হয়নি।

সাংবাদিক ফারহাদের মামলা রেকর্ডের ৫ দিন পর প্রধান আসামীকে বাদী করে মামলা রেকর্ডের বিষয়ে আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আসামী ফারুকও আহত হয়েছেন। তারা সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং এক্সরে রিপোর্ট দেখিয়েছেন। তাহলে সাংবাদিক ফরহাদের মামলা রেকর্ডের সময় তদন্ত ছাড়াই কি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, দুই পক্ষ আহত হয়েছে। সে কারণে দুই পক্ষের মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে আসামী ফারুক সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে কোন এক্সেরে ও কোন ধরনের পরীক্ষার করানো হয়নি বলে সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত ব্যক্তি জানান। তবে, মামলায় হাত ভাঙ্গার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু তার কোন প্রকার হাড় ফোলা ও হাড় ভাঙ্গার ঘটনাই ঘটেনি। এ কারণেই এক্সেরে ও কোন পরীক্ষার প্রয়োজন হয়নি।

উল্লেখ্য: সম্প্রতি সময়ে বসুখালী দাখিল মাদ্রাসার উপবৃত্তিধারী ছাত্র-ছাত্রীদের অর্থ আত্মসাৎ করার পায়তারার ঘটনায় সাংবাদিক ফারহাদ একটি ফেসবুক লাইভ ও পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করে। এ ঘটনাসহ পূর্বেও কিছু সংবাদ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আওয়ামীলীগ নেতা সোলায়মান হত্যা মামলার আসামি (যার নং-জিআর নং ২১২/১৭ (আশাঃ) শোভনালীর ইউপি সদস্য বসুখালী গ্রামের অমেদ আলী গাজীর ছেলে ফারুক হোসেন গাজী সহ তার বাহিনী ফারহাদের উপর ক্ষিপ্ত ছিলো।

গত ২৬ জুলাই বিকালে সাংবাদিক ফারহাদ আশাশুনির বসুখালী বাজারে যায়। এসময় তার সাথে বন্ধু বসুখালী গ্রামের মৃত জামাত আলী গাজীর ছেলে হামিদুল্লাহ বসুখালী সাইক্লোন সেন্টার এর নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় দেখে যে, ফারুক হোসেন গাজী ফেন্সিডিল খাচ্ছে। এই দৃশ্যটি ফারহাদ ক্যামেরায় ধারণ করে। ঘটনাসহ পূর্বের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন ক্ষিপ্ত হয়।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় আমার ছেলে সহ তার বন্ধু হামিদুল্লাহ একত্রে বসুখালী বাজারস্থ লিটন এর মীম ভ্যারাইটি স্টোর দোকানের সামনে রাস্তÍা দিয়ে বাড়ী ফেরার সময় ফারুক হোসেন গাজী, তার ভাই আজিবর রহমান, আরিফুল ইসলাম গাজী, মোঃ কামরুল ইসলাম গাজী, অজিবর রহমানের ছেলে ইমরান, ফারুকের ছোট চাচা আফসার আলী গাজী, মৃত জিয়াদ আলী গাজীর ছেলে আব্দুল জলিল গাজী, মৃত মোকছেদ গাজীর ছেলে ছামিউল্লাহ গাজী, আফছার গাজীর ছেলে রাকিব গাজীসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন সন্ত্রাসি সাংবাদিক ফারহাদ ও তার বন্ধু

হামিদুল্লাহ উপর হামলা চালায় এ ঘটনার খবর পেয়ে আশাশুনি থানার এ এস আই দেবাশীষ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যেয়ে ১টি জিআইপাইপ উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

পরে ফারহাদ ও তার বন্ধুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে স্থানন্তর করে। সাথে সাথে মাদকাসক্ত ও হত্যা মামলার আসামী কর্তৃক মিথ্যা ও ভূয়া মামলা প্রত্যাহার ও সকল সাংবাদিকসহ শোভনালীবাসী ওই হামলাকারীদের গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে নবাগত পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Categories: অপরাধ ফলোআপ,খুলনা,জাতীয়,টপ নিউজ,প্রধান নিউজ

Tags: