বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন রেজার ইন্তেকাল 

বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন রেজার ইন্তেকাল

হাকিকুল ইসলাম খোকন : বীর  মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন রেজা গত ২৪ জুলাই বুধবার সকাল ১১ টায় ঢাকার একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন) তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে, এক ছেলেসহ বহুগুনগ্রাহী রেখে গেছেন।থবর বাপসনিঊজ ।
ক্যাপ্টেন রেজা নামেই তিনি পরিচিত। মুক্তিযুদ্ধের সময় রেখেছেন স্মরণীয় অবদান। নেতৃত্ব দিয়েছেন কুমিল্লার ঐতিহাসিক বিবির বাজার যুদ্ধে। যে যুদ্ধে রচিত হয়েছে কুমিল্লার বীরত্বগাঁথা। অসীম সাহসিকতার সাথে লড়েছেন কুমিল্লার মুক্তিযোদ্ধারা। পাকিস্তানি বাহিনীর ২ শতাধিক সৈনিক নিহত হয়েছিল সে দিন। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে নিহত হয়েছিলেন ৬ জন। বিজয় অর্জিত হওয়ার পর এই শহীদদের মধ্যে একজন বীর বিক্রম ও এক জন বীর প্রতীক উপাধি পেয়েছিলেন। এই বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া ক্যান্টেন রেজা আর নেই ।
২৫        বৃহস্পতিবার বাদ যোহর কুমিল্লা টাউন হলে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
বিবির বাজার যুদ্ধ: ৯ মে কুমিল্লার বিবিরবাজারের গাজীর আইলের পূর্বপার্শে মুক্তিবাহিনী ও পশ্চিম পার্শ্বে পাকবাহিনীর মধ্যে ১০০ গজের ব্যবধানে সম্মুখযুদ্ধ হয়। সকালে এক দল পাকবাহিনী বোরকা পরিহিত মহিলার ছদ্মবেশে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘেরাও করে অতর্কিত আক্রমণ চালায়। মুক্তিযোদ্ধারা গেরিলা কায়দায় তা মোকাবেলা করে। মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন রেজা ক্যাপ্টেন মাহবুবের সঙ্গে পরামর্শ  করে কোম্পানি কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম, মেজর রাজ্জাক ও ছাত্র রফিক কৌশলে গাজীর আইলের পশ্চিম পার্শ্বে বৌয়ারাবাজারের উত্তর দিকে পাকবাহিনী যেখানে অবস্থান নিয়েছিল তার পেছনে যায়। মুক্তিযোদ্ধারা একটি চাইনিজ  এলএমজি ও একটি চাইনিজ ষ্টেনগান দিয়ে পাকবাহিনীকে লক্ষ্য করে পিছন থেকে গুলি করে। সামনে থেকে গুলি ছুঁড়ছিল অপর এক দল মুক্তিযোদ্ধা। দু’দিক থেকে গুলি আসায় পাক বাহিনী বেসামাল হয়ে পড়ে। কিন্তু পাকদের বিশাল সৈন্যবাহিনী ও বিপুল অস্ত্রশস্ত্র থাকায় মুক্তিযোদ্ধারা বেশিক্ষণ এক জায়গায় অবস্থান নিতে পারেনি। দুপুরের দিকে সিরাজুল ইসলাম, রাজ্জাক, রফিক ডিফেন্সে ফিরে আসে। কিন্তু অপর মুক্তিযোদ্ধারা তাদের ডিফেন্স ছেড়ে গেছেন গুলি শেষ হওয়ায়। ইপিআর হাবিলদার জুম্মা মিয়া তখনও মেশিনগান চালাচ্ছেন। জুম্মা মিয়ার গুলি প্রায় শেষ হয়ে আসে। তার মেশিন গানের সামনে দিয়ে পাকবাহিনীর এডভান্স হচ্ছে। জুম্মা মিয়া উন্মাদের মতো হয়ে যান। তাকে ফায়ার বন্ধ করার নির্দেশ দিলেও তিনি ফায়ার বন্ধ না করে বাংকারে উপর থেকে ফায়ার করতে থাকেন। এক সময় শত্রুপক্ষের এক ঝাঁক গুলি এসে লাগে জুম্মা মিয়ার মাথায় এবং তিনি শহীদ হন। এমনিভাবে শহীদ হন আরো ছয়জন মুক্তিযোদ্ধা। হাবিলদার জুম্মা মিয়া বীর বিক্রম উপাধী পেয়েছেন।
এ যুদ্ধে শহীদদের মধ্য রয়েছেন আবদুল কাদের মোল্লা বীর প্রতীক, মেডিক্যালের ছাত্র ইমতিয়াজ আহমেদ প্রমুখ। এ যুদ্ধে বিবিরবাজার এফএফ প্লাটুনের কমান্ডার ক্যাপ্টেন সিরাজুল ইসলাম, শফিউল আহমেদ বাবুলসহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা অংশ নেন।

Categories: প্রবাসের খবর

Tags: