ভারীবৃষ্টি আর সংস্কার কাজের ধীরগতিতে সুনামগঞ্জ সড়ক এখন আবা‌দি জ‌মি

ভারী বৃষ্টি আর সংস্কার কাজের ধীরগতিতে সুনামগঞ্জ সড়ক এখন আবা‌দি জ‌মি

সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্ট ও জাউয়াবাজার এলাকায় সড়কে আরসিসি ডালাই কাজের ধীরগতির কারণে বৃষ্টির পানি ও কাঁদায় সড়ক যেন আবা‌দি জ‌মিনে প‌রিনত হ‌চ্ছে। একাকার হয়ে এখন চরম জন-দূভোর্গ দেখা দিয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্ট ও জাউয়াবাজার আশ-পাশ এলাকায় মালবাহী এবং যাত্রীবাহি যানবাহনগুলোর সীমাহিন যানজট লেগেই থাকে। গোবিন্দগঞ্জে ঘন্টার পর ঘন্টা সড়কের তিন পাশে শ’শ’ যানবাহন আটকা পড়ে চরম দূভোর্গ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী সাধারণের। এ দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ছে রোগি-লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য যানবাহনগুলো। সি‌লেট সুনামগঞ্জ সড়‌কে গাড়িগুলো চলে ধীরে। ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য জেলা থেকে হাওর-জেলা সুনামগঞ্জ যেতে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক ধরে যেতে যেতে যাত্রী ও চালকদের এখন কোমর ভাঙ্গা গর্তে হ‌চ্ছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর মহাসড়কের ৬৫ কিলোমিটার ১৮ থেকে ২৪ ফুট চওড়াসহ মজবুত করতে ১শ’৪০ কোটি ৫৪ লাখ টাকার প্রকল্প বরাদ্ধ হয়। ২০১৬ সালে প্রকল্প নেয়ার পর এক বছর আইনি জটিলতায় কাজ শুরু হয়নি। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে কার্যাদেশ দেয়ার পর তিন বছরে ৪০ শতাংশ কাজও হয়নি। আগামী বছরের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে। স্থানীয়রা শুধু কাজের শম্বুকগতি, রাস্তায় কর্মসূচি পালন করে অনিয়মের অভিযোগও করেছে জেলা প্রশাসনে। অভিযোগ করা হয়েছে—মহাসড়কের নিচ ও পাশ থেকে ২০ কোটি টাকার উন্নত বোল্ডার পাথর সরিয়ে নিয়েছেন ঠিকাদাররা।তবে ঠিকাদার ও সওজ কর্মকর্তারা বলছেন, এ অভিযোগ ঠিক নয়। সওজ ও ঠিকাদাররা জানান, সিলেট-গোবিন্দগঞ্জ, গোবিন্দগঞ্জ-ডাবরঘাট ও ডাবরঘাট-সুনামগঞ্জ—এই তিন অংশে ভাগ করে মহাসড়ক উন্নয়নের কাজ চলছে। কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্স অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স জন্মভূমি নির্মাতা অ্যান্ড ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী জনজেবি কনস্ট্রাকশন। প্রকল্প এলাকায় দুই দিকে তিন ফুট করে গভীর ও প্রস্থে উন্নত পাথর ও বালু দিয়ে ভরাটের কথা ছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো তার বদলে দুই থেকে দেড় ফুট গভীরে গিয়ে বালু ও পাথর দিয়ে ভরাট করেছে। ষাটের দশকে এ মহাসড়কে দুই দিকসহ সড়কের নিচের পুরো অংশে বড় বড় বোল্ডার বসানো হয়েছিল। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে, এসব পাথর গত ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে ট্রাক ভরে সরিয়ে নিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো। সরিয়ে ফেলা বোল্ডারের দাম কমপক্ষে ২০ কোটি টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এই লুটপাটের অভিযোগ করা হলেও সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম নীরব র‌য়ে‌ছে। সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জ ব্যবসা‌য়ি নগর ক‌রিম বলেন, ‘দুই পাশের বর্ধিত অংশের গভীরতা তিন ফুট করা হয়নি। প্রস্থেও বিভিন্ন স্থানে কম। প্রস্থ ও গভীরতা কম থাকায় কার্যাদেশের চেয়ে উপকরণ কম লেগেছে। এ ছাড়া আমাদের চোখের সামনে পাকিস্তান আমলে দেয়া। দুই দিকের উন্নত বোল্ডার পাথরগুলো ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সদরুল আ‌মিন সুহান ব‌লেন,এখন বর্ষাকাল। বর্ষাকাল শুরু হলেই সি‌লেট সুনামগঞ্জ সড়কের ছাতক গো‌বিন্দগঞ্জ ট্রা‌ফিক প‌য়েন্ট ,জাউয়াবাজার জামে মসজিদ পর্যন্ত সড়কটি সীমাহীন ভোগান্তির কারন হয়ে দাড়ি‌ছে়। পথচারীরা পড়ে যায় তখন চরম বিপাকে। এই সীমাহীন ভোগান্তি নিয়ে চলছে বছরের পর বছর চল‌ছে। সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে,
বর্ষা শুরু হলেই সড়কটি ব্যবহারে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও পথচারীদের । একটু বৃষ্টিতে সড়কটি পরিণত হচ্ছে কর্দমাক্ত চাষের জমিতে। এ অবস্থায় ওই সড়ক দিয়ে গাড়ি তো দূরে থাক বাইসাইকেল চলাচলেরও অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। সি‌লেট সুনামগঞ্জ সড়‌কে গো‌বিন্দগঞ্জ প‌য়েন্ট জাউয়াবাজার এলাকায় প্রধান সড়ক মি‌নি পুকুর গ‌র্তে প‌রিনত হ‌চ্ছে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে হাঁটু পর্যন্ত কাদা জমে যায়। দেখে মনে হয যেন় আবাদি জমি।

সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাক্কলন অনুসারে, সড়ক প্রশস্থকরণ, সার্ফেসিং, রিজিড পেভমেন্ট ও ইন্টারসেকশনের কাজ চলছে। তবে কত ভাগ কাজ হয়েছে তা বলতে পারেননি তিনি। মহাসড়কের দুই দিকের দামি বোল্ডার পাথর কোন প্রক্রিয়ায় সরানো হলো, এর মূল্য কিভাবে নির্ধারণ করা হলো সেটা জানতে তাঁর কাছে লিখিত আবেদন দেয়ার পরও তিনি তথ্য দিতে অস্বীকার করেছেন।

সওজ সিলেট সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনোয়ারুল আমীন বলেন, প্রায় চার বছর আগে পরিকল্পনা কমিশনের প্রতিনিধিদল সরেজমিনে ঘুরে মহাসড়ক চওড়া করার সুপারিশ করে। তার পরিপ্রেক্ষিতেই সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া হয়েছে। ১৪০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয় হবে তাতে। ২০১৬ সালে প্রকল্প পাস হলেও এক বছর কাজ শুরু করা যায়নি আইনি জটিলতায়। এখন মহাসড়কের যে অবস্থা তা রক্ষণাবেক্ষণের পুরো দায়িত্ব ঠিকাদারদের।

ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী জনজেবি কনস্ট্রাকশনের পরিচালকওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আলাদা বাজেট নেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর। বর্ষার কারণে কাজ কম হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হয়ে যাবে প্রকল্পের। বোল্ডার সরিয়ে নেয়ার অভিযোগ তিনি স্বীকার করেননি।এ‌দি‌কে হতাশা আর ক্ষোভ প্রকাশ করে পথচারীরা বলছেন, প্রতিদিন ওই সড়কের কাদায় পড়ে ছাত্র-ছাত্রীসহ অনেককে বাড়ি ফিরে যেতে হয়। পথচারীরা সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এ করুন দশা থে‌কে ক‌বে জেলাবা‌সি মু‌ক্তি পা‌বে এ প্রশ্ন সবার ম‌নে

Categories: সিলেট

Tags: