বাখরাবাদ গ্যাস কর্মকর্তাদের গোল্লাছুট ; বরাবরই অধরা মূল দূর্নীতিবাজরা

বাখরাবাদ গ্যাস কর্মকর্তাদের গোল্লাছুট ; বরবরই অধরা মূল দূর্নীতিবাজরা

মাহফুজ বাবু ; অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরন নিয়ে কুমিল্লা বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড এর গোল্লাছুট খেলা চলছে। এবার নিয়ে চতুর্থবারের মত মঙ্গবার দুপুরে বুড়িচংয়ের ষোলনল ইউনিয়নের ২১টি গ্রামের কয়েক হাজার গ্রাহকের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলো। বাখরাবাদের অভিযোগ, স্থানীয় নেতা ও ঠিকাদাররা অবৈধভাবে সংযোগটি দিয়েছেন।

গ্রাহক, ঠিকাদার ও স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, “বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোঃ লিঃ এর তৎকালীন ঠিকাদার খোরশেদ এর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টেন্ডার দিয়ে গ্যাস সংযোগটি দেয়া হয়। স্থানীয় ঠিকাদার, নেতা ও এলাকাবাসী গ্যাস গ্রাহকরা জানায়, গত ৫ বছর ধরে সংযোগটি চলছে। ষোলনল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন, ঠিকাদার বাবু ও হাবিবুর রহমান টুনু বলেন, এই সংযোগটি প্রকাশ্যে এতদিন ধরে এমনিতেই চলছে না। জনগনের বহু কষ্টের অর্জিত টাকা নিয়ে বাখরাবাদ কর্তৃপক্ষ গ্যাস সংযোগটি দিয়েছে। ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত বাখরাবাদের কর্মকর্তারা সকলেই টাকা নিয়েছেন সংযোগ দেয়ার বিনিময়ে।

বাখরাবাদের তৎকালীন ডিজিএম আবুল বাশার নিয়েছেন ৩০ লক্ষ টাকা, উপ-মহাব্যাবস্থাপক (এস এন্ড এস) হেলাল উদ্দিন শিকদার নিয়েছেন ২৪ লক্ষাধিক টাকা, তৎকালীন এমডি নিয়েছেন ১০লক্ষ টাকা। সিবিএ নেতা আবুল খায়ের সরকার এবং স্বপন সরকার নিয়েছেন ৫৪ লক্ষ টাকা। এছাড়াও বাখরাবাদের যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা সকলেই টাকা নিয়েছেন বৈধ সংযোগ দেয়ার কথা বলে । বর্তমানে জালালাবাদ গ্যাস এর এমডি, বাখরাবাদের তৎকালীন জিএম এহসানুল হক মিলনের মাধ্যমে ২কোটি টাকার অধিক লেনদেন হয় এই সংযোগ দেয়ার বিনিময়ে।”

স্থানীয় নেতা ও ঠিকাদাররা বলেন, “বাখরাবাদ জনগনের কষ্টার্জিত টাকা নিয়ে তাদের সাথে প্রতারণা করছে। ষোলনল এলাকার বিচ্ছিন্ন করা সংযোগের মধ্যে প্রায় ৮৫০ জন গ্রাহক সংকেত নং সহ বিল বই ও রয়েছে। এছাড়া সহস্রাধীক গ্রাহকের (ডিমান্ড নোট) বই প্রক্রিয়াধিন রয়েছে। বাখরাবাদ কর্তৃপক্ষ টাকা নিয়েছে, গ্রাহকরা বইয়ের মাধ্যমে সরকারের ঘরে মাসিক বিল জমা দেয় , সংযোগ যদি অবৈধ হয় তাহলে এর দায় জনগনের নয়। বাখরাবাদ কর্মকর্তাদের সই রয়েছে বইগুলোতে। প্রতি বই সই করতে আলাদা ভাবে ৩ হাজার টাকা করে নিয়েছে উপ-মহাব্যাবস্থাপক হেলালুর রহমান শিকদার। যারা টাকা নিয়ে সংযোগ দিয়েছে এই দুর্নীতির দায় তাদের। পুনারায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এলাকার সাধারন মানুষকে তারা ভোগান্তিতে ফেলছে।”

উল্লেখ্য, ২৩ জুলাই মঙ্গলবার সকাল থেকে কুমিল্লা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রাট এস.এম ফয়সাল এর নেতৃত্বে র‌্যাব ১১এর সিপিসি-২ এর ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার প্রণব কুমার, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর লিমিটেড এর উপ-ব্যবস্থাপক মোঃ সফিকুল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপক মোঃ রবিউল হক, উপ-ব্যবস্থাপক মোঃ হেলাল উদ্দিন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে কুমিল্লার আমতলী কামারখাড়া ব্রীজ সংলগ্ন এলাকা থেকে বুড়িচং ষোলনল ইউনিয়নের ২১ গ্রামের প্রায় ৩ হাজার অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এসময় প্রায় ৩ কিলোমিটার অবৈধ গ্যাস লাইন উত্তোলন করা হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রাট এস.এম ফয়সাল জানান, অবৈধ ভাবে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করন অভিযান চলমান থাকবে। অবৈধ সংযোগকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর লিমিটেড এর উপ-ব্যবস্থাপক মোঃ সফিকুল ইসলাম জানান, কু-চক্রী একটি মহল অবৈধ ভাবে মেইন লাইক কেঁটে গ্যাস সংযোগ নিয়েছে। অতীতে আরো দু’বার এ সংযোগ বিচ্ছিন করা হয়েছিল। কু-চক্রী মহলটি গোপনে সংযোগ প্রদান করে। এ বিষয়ে বুড়িচং থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদ অভিযান অব্যহৃত থাকবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বুড়িচং থানার ওসি আকুল চন্দ্র বিশ্বাস ও অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকতাগন ।

এতসব অভিযোগ থাকলেও বাখরাবাদের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অনেকেই রয়েছেন বহাল তবিয়তে। টাকা দিয়েও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদেরকে। সংযোগটি বিচ্ছিন্নের কারনে ২১টি গ্রামের প্রায় ৩ সহস্রাধিক পরিবার পারিবারিক রান্নাবান্না সহ গৃহস্থালির কাজ নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পরেছেন।

Categories: অপরাধ ফলোআপ,কুমিল্লা,জাতীয়,টপ নিউজ,প্রধান নিউজ

Tags: