পদ-পদবীর জন্য রাজনীতি করি না ; ছাত্রলীগ নেতা বিপু পোদ্দার

পদ-পদবীর জন্য রাজনীতি করি না ; ছাত্রলীগ নেতা বিপু পোদ্দার

তিতাস উপজেলার ঐতিহ্যবাহী একটি বিদ্যাপীঠ মাছিমপুর আর আর ইনস্টিটিউশন। ১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিতাসেরই একজন দানবীর ও জমিদার স্বর্গীয় শ্রী রাজ বিহারী পোদ্দার। শুধু মাছিমপুর হাইস্কুল নয় তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন মাছিমপুর সরকারি প্রাথমকি বিদ্যালয়টিও। যার কল্যাণে আজ অগণিত হাজরো মানুষের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। শোনা যায় এই অঞ্চলেরর মানুষজন এক সময় খুব দুষ্টু ছিল এবং চোর ডাকাতে ছিল ভরপুর। তাদের ছিল না কোন কর্ম ও লেখাপড়া। সমাজকে অন্ধকারের হাত থেকে রেহাই দিতে ও সাধারণ মানুষের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে অনেক কৌশল করে তিনি স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য দান করেছেন নিজের কোটি টাকার পৈতৃক সম্পত্তি। তিনি চেয়েছেন তবুই এই অঞ্চলের মানুষজন ভালো হোক, ভালো থাকুক। কারণ তিনি বিশ^াস করতেন এই অঞ্চলের মানুষকে সভ্য করতে হলে শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে এবং শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। সেই তাগিদ থেকেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাছিমপুর আর আর ইনস্টিটিউশন। তিনি একজন দানবীর ও শিক্ষানুরাগী মানুষ ছিলেন। সম্পত্তি দানের পাশাপাশি নিজের বুদ্ধি খাঁটিয়ে স্কুল প্রতিষ্ঠায় রেখেছেন অসাধারণ ভূমিকা। কারণ তখনকার সময়ে একটি স্কুল থেকে আরেকটি স্কুলের দূরত্ব হতে হতো ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার। কিন্তু তখন হাই স্কুল ছিল জাহাপুর। আর জাহাপুর থেকে মাছিমুপরের দূরত্ব ছিল বড় জোড় ৩-৪ কিলোমিটার হবে। আর তখন ছিল বর্ষাকাল। যারা পরিদর্শনে এসেছিলেন তাদেরকে জলপথে ২০-২৫ কিলোমিটা ঘুরিয়ে জাহাপুর স্কুলে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এইভাবে অর্থ, শ্রম ও বুদ্ধি খাটিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন স্কুলটি।
এক সময় এই স্কুলের সভাপতি ছিলেন তাঁরই সুযোগ্য সন্তান বাবু রাখাল চন্দ্র পোদ্দার। তিনি ৫ বার সভাপতির দায়িদ্ব পালন করেন। তিনি একজন দাতা সদস্যও বটে। তবে তিনি যখন স্কুল থেকে চলে যান তখনই স্কুলে নেমে আসে কালো ছায়া। স্কুলে ভর করে নানা অসঙ্গতি। বিনা ভোটে কমিটি গঠনসহ নানা বিতর্ক পিছু ছাড়ে না প্রিয় এই বিদ্যালয়টির। স্কুলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আসছে আবারও নির্বাচন। এবারও যদি আমরা সভাপতিসহ অন্যান্য পদে যোগ্য ব্যক্তিদের ঠাই দিতে ব্যর্থ হই তাহলে স্কুলটি সামনে না গিয়ে পেছনে চলে যাবে। তাই এবারের নির্বাচনে সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের লোকদের চাওয়া প্রতিষ্ঠানটি যারা প্রতিষ্ঠা করেছেন , তাদের পরিবার থেকে কেউ একজন সভাপতি হোক। আর তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হলে, প্রতিষ্ঠাতার নাতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিবেকানন্দ পোদ্দার বিপু আগ্রহ প্রকাশ করেন। এবং বলেন যদি সবাই আমাকে সাপোর্ট করে তাহলেই কেবল আমি যাব, অন্যথায় যাব না। আমার দাদা স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছে সাধারণ জনগণের মঙ্গলের জন্য। আমরা চাই স্কুলটি সুন্দরভাবে চলুক। সারা বাংলাদেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ হিসেবে সুনাম অর্জন করুক।
বিবেকানন্দ পোদ্দার বিপু ছিলেন এক সময়কার তুখোড় ছাত্রলীগ নেতা। স্কুলে পড়া অবস্থায় তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত হয়ে পড়েন। তিনি যখন ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়েন তখন থেকেই জয় বাংলা জয় বাংলা বলে শ্লোগান দিতেন। নারায়নগঞ্জ তোলারাম সরকারি কলেজ থেকে তিনি বি.কম পাশ করেন। তিনি নারায়নগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘদিন। তোলারাম সরকারি কলেজের তখনকার ভিপি ও বর্তমানে নারায়গঞ্জ জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসানাত শহিদ বাদলসহ কারাবরণ করতে হয়েছিল তাকে ২ বার।
ছাত্রলীগ করার কারণে এবং রাজপথে সক্রিয় থাকার কারণে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এবং ২০০১ সালে এক পর্যায়ে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। সাথে ছিলেন নারায়নগঞ্জের সিংহ পুরুষ শামীম ওসমান এমপি (নারায়নগঞ্জ-৪ আসন)। ৬ মাস ভারতে পালিয়ে বেড়িয়েছেন। তখন সময়টা ছিল এমন, এই বুঝি ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। ভয়ে কেউ কথা বলতে পারত না।
সে সময়ে বাংলাদেশ আ’লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সেতু ও পরিবহন মন্ত্রী ওবায়েদুল কাদের, বর্তমান পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক পিএস সাইফুজ্জামান শেখর এমপি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত সিকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয়কর খোকন, মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র রফিক কোতয়াল, তিতাস গ্যাসের পরিচালক মোস্তাক আহমেদ, কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের তিন বারের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ এর সাথে রাজপথে মিছিল –- আন্দোলন সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন তিনি। জোট সরকারের আমলে তখন ছাত্রলীগ নেতাদের সকলে মিলে সেগুনবাগিচার সুবাস্তু তাজ ভিলায় ৭ম তলায় বিপুর বাসায় ও ১ম ফ্লোরে লিটন সাহার বাসায় বসে রাজপথের সমস্ত কর্মসূচী নির্ধারণ করতেন। কারণ তখন ৮ম তলায় থাকতেন বর্তমান সেতুমন্ত্রী ওবায়েদুল কাদের, প্রথম ফ্লোরে থাকতেন বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এর সভাপতি লিটন সাহা এবং ৭ম তলায় বিপু পোদ্দার। সে কারণে সেগুনবাগিচার সুবাস্তু তাজ ভিলায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মিলন মেলায় পরিণত হতো সব সময়।
১৯৮১ সালের ১৭ মে যখন নেত্রী প্রবাস থেকে দেশে ফিরে আসেন তখন বিমান বন্দরে শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানাতে আবুল হাসানাত শহিদ বাদল ও বিপু পোদ্দারের রাজনৈতিক শিক্ষাগুরু নারায়নগঞ্জ ৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের হাত ধরে অল্প বয়সেই বৃষ্টিতে ভিজে দাড়িয়ে ছিলেন নেত্রীর আগমনের অপেক্ষায়। কারণ মাদার অব হিউম্যানেটি, গণতন্ত্রের মানস কন্যা, জননেত্রী দেশরত্ব শেখ হাসিনাকে বিপু পোদ্দার মমতাময়ী মায়ের মতই ভালোবাসেন, শ্রদ্ধা করেন।
১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আবারও তিনি গ্রেফতার হন। ১৯৯৩ সালে তার রাজনৈতিক সহযোদ্ধা নারায়গঞ্জ তোলারাম সরকারি কলেজের সাবেক জিএস জাকিরুল আলম হেলালের সাথে অসহযোগ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
২০০২ সালে কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদসহ হরতালে ঝটিকা মিছিলের সময় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে পুলিশের টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেটের আঘাতে তিনি আহত হন। কারণ সে সময় মিছিল মিটিং নিষিদ্ধ ছিল। ২০০৪ সালে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার সময় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকনের সাথে ট্রাকের সামনেই ছিলেন এবং আহত হন।
এই বিষয়ে বিপু বলেন, কোন পদ পদবীর জন্য রাজনীতি করি না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অবিচল থেকে সব সময় রাজনীতি করেছি। কোন লাভের আশায় নয়।
বর্তমানে তিনি ঢাকায় নিজের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। সেই সাথে রামানন্দ গোস্বামী আশ্রমের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি তিতাসের অন্যতম সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ফ্রেন্ডস ক্লাবের সুহৃদ সদস্য।

Categories: মতামত বিশ্লেষণ

Tags: