প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন’র প্রতারনা

প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন’র প্রতারনা

স্টাফ রিপোর্টারঃ স্কুলে অনিয়মের একের পর এক অভিযোগের সংবাদ প্রকাশের পর এবার বেরিয়ে এসেছে হাফছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন’র নতুন এক প্রতারণার তথ্য। লাগামহীন অনিয়ম-জালিয়াতীর মধ্যেও বিদ্যালয়ের পাশে বসবাসের বাড়ী ও আসবাবপত্র ক্রয়ের নাম করে টাকা না দিয়ে জালিয়াতী আর প্রতারণার আশ্রয় নেয় এ মোয়াজ্জেম হোসেন। এর আগে তার দুর্নীতির সংবাদ জাতীয় দৈনিকসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ হলে এলাকায় চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়।

সাবেক আরেক প্রধান শিক্ষককে পাওনা টাকা চাওয়ার পরও বছরের পর বছর টাকা না দিয়ে হয়রানী তথ্য বের হয়ে এসেছে মোয়াজ্জেম এর বিরুদ্ধে। ক্ষমতার প্রভাবও বেশ তার। তবে এত সব অনিয়মের পরও কিসের এত ক্ষমতার দাপট তা নিয়েও রয়েছে নানা গুঞ্জন। গুইমারা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমানের সময়ে ২০০৫ সালে অবৈধভাবে প্রধান শিক্ষক বনে যাওয়ার অভিযুক্ত এ শিক্ষক।
মোয়াজ্জেম হোসেন’র তার বক্তব্যে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া বিষয় অস্বীকার করলেও ৫০ হাজার টাকা খরচের জন্য নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। যা অনিয়মের স্বীকারোক্তি।

এছাড়াও সুষ্ঠ তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে এ শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা। তার নিয়োগের পর থেকে স্কুলের ব্যাংক হিসাবসহ অন্যান্য হিসাব করলেই বেরিয়ে হয়ে আসবে তার থলের বিড়াল।২০১৮ সালে অফিস সহকারী স্থায়ী ভাবে নিয়োগে তিন প্রার্থী থাকলেও দুজন মহসিন ও ইব্রাহীন খলিল গুইমারা উপজেলার বাসিন্দা। অপর জন হচ্ছে মহালছড়ি উপজেলার মিল্টন চাকমা। সকল যোগ্যতা থাকলেও তাদের কাউকে নিয়োগ না দিয়ে অদৃশ্য কারণে মিল্টন চাকমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের পর থেকে স্কুলে প্রতিনিয়তই উপস্থিত না থাকলেও তা নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই কারই। যা শিক্ষকদের সাথে কথা বললেই বেরিয়ে আসবে।

এদিকে ২০১৮ সালে ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তুু নতুন কমিটিকে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়ে পুরাতন কমিটি দিয়ে চলছে স্কুল পরিচালনা। উক্ত কমিটির নিয়মিত ভাবে কোন প্রকার সভা ও কোন হিসাবের বালাই নেই। স্কুলের নামে গুচ্ছগ্রামের ৬১৫টি রেশন কার্ড থেকে ১ কেজি করে চাউল দেওয়া হয় কিন্তু তারও কোন হিসাব দেওয়া হয় না।

শিক্ষক নিয়োগের স্বচ্ছতার অংশ হিসেবে প্রচারিত বিজ্ঞাপনের কপি নোটিশ বোর্ডে দেওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। প্রতি অর্থ বছর স্কুলের আয়-ব্যয় হিসাব দেওয়ার কথা থাকলেও তা এ স্কুলে যেন কথার কথা। নিজ দায়িত্বে প্রধান শিক্ষক আয়-ব্যয় বানিয়ে থাকেন। কোন সহকারী শিক্ষককের সাথে সমন্বয় না করে যা ইচ্ছ তা করেন তিনি।
প্রত্যেক বছর এসএসসি ও টেস্ট পরিক্ষার অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ভর্তি এবং অন্যান্য স্কুলের ছাত্রদের ভর্তি করানোর ঘটনা নতুন কিছু নয়। স্কুলে রয়েছে ওডিটের ফাকিও। ফলে অনিয়ম সে এ স্কুলের নিত্য দিনের সঙ্গি। বিগত বছরগুলোতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সার্টিফিকেট দিতে ৩শ-৫শ টাকা আদায় করা হলেও সে হিসাবও লাপাত্তা। কিন্তু ২০১৮সাল থেকে এস.এস.সি সার্টিফিকেট ৩শ টাকা জমা দেখানো হয়।

সাবেক প্রধান শিক্ষক বিদায় নেওয়ার পর প্রধান শিক্ষক হওয়ার কথা ছিল দিপায়ন বাবু। কিন্তু কৌশলে স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক এস.এম মহিউদ্দিনের আসবাবপত্র ক্রয়ের কথা হলেও সুযোগে টাকা না দিয়েই সে ঘরটি দখল করে নেয়। এ বিষয়ে মুঠোফোনে বিষয়টি স্বীকার করে এস.এম মহিউদ্দিন। এছাড়াও তার গ্রামের বাড়ী চাপাই নবাবগঞ্জের ৪ জনকে কৌশলে নিয়োগ দেয়। এতেই শেষ নয় প্রাইভেট বার্ণিজ্য থেকে অল্প বেতন পেলেও তার অনিয়মের টাকায় মেয়েকে ঢাকায় পড়ানো থেকে শুরু করে বর্তমানে তিনি নামে-বেনামে অনেক সম্পত্তির মালিক হয়ে গেছেন।

হাফছড়িতেও তার নামে জায়গা ক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। তা সঠিক ভাবে তদন্ত করলে উদঘাটন করা যাবে এ শিক্ষকের সকল অনিয়মের খতিয়ান। তার লাগামহীন অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগের জন্য তার মুঠোফোনে একাদিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

Categories: চট্টগ্রাম

Tags: