প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে পাবনায় এসে ধর্ষণের শিকার

প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে কিশোরীর সর্বনাশ

প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে পাবনায় এসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে রাজশাহীর এক কিশোরী (১৬)। পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানার চর-বোয়ালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ ঘটনায় কথিত প্রেমিক রিজন সরদার (২০) ও তার বন্ধু আব্দুল মমিনকে (২৪) গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতার রিজন সরদার সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার রশিদপুর গ্রামের মৃত আকতার সরদারের ছেলে এবং আব্দুল মমিন পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানার চরবোয়ালিয়া গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে। শনিবার দুপুরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আমিনপুর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আবু তাহের জানান, রাজশাহীর রাজপাড়া থানার বহরামপুর এলাকার ওই কিশোরীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে রিজন সরদারের। এরই ধারাবাহিকতায় মেয়েটি গত ২৭ জুন কাউকে না জানিয়ে রিজনের কথামত বাড়ি থেকে বের হয়ে আসে এবং রিজন তাকে নিয়ে পাবনার আমিনপুর থানার বোয়ালিয়া গ্রামে রিজনের বন্ধু মমিনের বাড়িতে গিয়ে ওঠে। সেখানে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে থাকে।

তিনি আরও জানান, এরই মধ্যে পাড়ার বখাটেরা কোনোভাবে জেনে যায় যে, তারা স্বামী-স্ত্রী নয়। এ নিয়ে এলাকায় বিরুপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এলাকার বখাটে মিজান, মমিন, শাহিন, হাসান ও রিজন মেয়েটিকে গাড়িতে তুলে দেয়ার কথা বলে মমিনের বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে আসে। পরে তাকে রাস্তায় নির্জন স্থানে নিয়ে মিজান ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে মেয়েটির চিৎকারে গ্রামবাসী এগিয়ে আসলে বখাটেরা পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী আমিনপুর থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে করে। শুক্রবার রাজশাহী থেকে মেয়েটির স্বজনরা খবর পেয়ে আমিনপুর আসেন এবং রাতে মেয়েটি বাদী হয়ে আমিনপুর থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে রিজন ও মমিনকে গ্রেফতার করে।

আমিনপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম জানান, বিয়ের প্রলোভন দিয়ে রিজন মেয়েটিকে ফোন করে নিয়ে আসে। শনিবার দুপুরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ধর্ষণের শিকার মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্য তিন আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান।

Categories: রাজশাহী

Tags: