কুমিল্লার কাতার প্রবাসী নাজমুল-সাদিয়ার পরিচয় প্রেম বিয়ে নাকি প্রতারণা!

নিজস্ব প্রতিবেদক :  ‘কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ মজুদার এর কাতার প্রবাসী ছেলে নাজমুল হাসান। চৌদ্দগ্রামে বসত বাড়ি ব্যাতিত প্রোপার্টি সব বিক্রি করে বর্তমানে কুমিল্লা নগরীর মুরাদপুর এলাকার প্রফেসর পাড়ার জানু মিয়া জামে-মসজিদের পাশের একটি বাড়িতে বসবাস করে নাজমুলের পরিবার।

কুমিল্লার কাতার প্রবাসী নাজমুল-সাদিয়ার পরিচয় প্রেম বিয়ে নাকি প্রতারণা!

সোশ্যাল মিডিয়া সুত্রে পরিচয় হয় খুলনার সদরের হাউজিং ষ্টেট এলাকার সাদিয়া ইসলামের সাথে। প্রথমে বন্ধুত্ব এর পর ধিরে ধিরে মেসেঞ্জারে চ্যাটিং হতে হতে একসময় প্রেমের সম্পর্কে জড়ায় দুজন। ভিডিও কল ও নেটে প্রতিনিয়ত কথা চলতে থাকে দুজনের। দিনে দিনে সম্পর্ক গভীর হয় দুজনের। অবশেষে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে এক মাসের ছুটিতে দেশে আসে নাজমুল। এরপর পূর্ব সীদ্ধান্ত অনুযায়ী একই মাসের ২৯ তারিখ সাদিয়া কে নিয়ে কক্সবাজার রওনা হয় নাজমুল। সেখানে লাবনী পয়েন্টের একটি হোটেলে ওঠে তারা। ৩০ তারিখ সেখানকার স্থানীয় একটি কাজী অফিসে ৩ লক্ষ টাকা কাবিনে নিকাহনামা রেজিষ্ট্রেশনের মাধ্যমে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করে।

কুমিল্লার কাতার প্রবাসী নাজমুল-সাদিয়ার পরিচয় প্রেম বিয়ে নাকি প্রতারণা!

এরপার আর কি, নবদম্পতির হানিমুন শেষে ৩ দিন পর সাদিয়াকে খুলনা পৌঁছে দিয়ে কুমিল্লায় নিজ এলাকায় চলে আসে নাজমুল। নাজমুলের কাছে তার বাড়িতে যেতে চেয়ে বায়না করেছিলো সাদিয়া, কিন্তু নাজমুল পরিবারিক সমস্যা এবং মায়ের অসুস্থতার কথা বলে পরে সকলকে রাজি করিয়ে বাড়িতে উঠিয়ে নেবে বলে জানায়। এছাড়া এভাবে বিয়ে করেছে শুনলে অসুস্থ মা এবং পরিবারের লোকজন কষ্ট পাবে বলে কৌশলে এড়িয়ে যায়। সাদিয়াকে বোঝায়, একবছর পরে আবার দেশে আসবে এর ভেতরে পরিবারের সকলকে রাজি করিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে তাকে ঘরে তুলে নেবে। সদিয়া সরল মনেই যুক্তিসঙ্গত কারনে স্বামীর এসব কথা মেনে নেয়। সম্পর্ক স্বাভাবিক ভাবেই চলতে থাকে দুজনের।

কুমিল্লার কাতার প্রবাসী নাজমুল-সাদিয়ার পরিচয় প্রেম বিয়ে নাকি প্রতারণা!

বিয়ের সপ্তাহ খানেক পর হঠাৎ নাজমুল তার মায়ের জরুরি চিকিৎসা ও অপারেশন করাতে হবে বলে জানায় সাদিয়াকে। টাকা যা নিয়ে এসেছিলো সবই প্রায় শেষ মায়ের অপারেশনের জন্য প্রায় ৩ লক্ষ টাকা জরুরী প্রয়োজন। স্বামী ও শাশুরীর বিপদে এগিয়ে আসে সাদিয়া নিজের জমানো টাকা, পরিবার ও আত্মীয়দের কাছ থেকে ধারদেনা করে ২লক্ষ টাকা জোগাড় করে দেয় নাজমুল কে। এছাড়া স্থানীয় নোয়াবাজার এলাকার বিকাশ এজেন্ট দোকানী বিল্লাল হোসেনের এজেন্ট নাম্বারে ২০ হাজার করে দু’বারে আরো ৪০ হাজার টাকা পাঠায়। সম্পর্ক বা ভালোবাসার ঘাটতি ছিলো না কারো মাঝেই।

২০১৮ সালে জানুয়ারির ১৫ তারিখ ছুটি শেষে পুনরায় কাতার চলে যায় নাজমুল। আগেই মতই ফোনে কথা হয় দুজনার। কাতারে অন্যের চাকরি করা নাজমুল এর কয়েকমাস পর একটি দোকান নিয়ে ব্যাবসা করার কথা জানায় । দোকানটা নিতে পারলে ইনকাম ভালো হবে সাদিয়াকেও সেখানে নিয়ে যেতে পারবে বলে জানায় সে। তবে দোকানটা নিতে হলে ৩/৪ লাখ টাকা দরকার। লেখাপড়া জানা সাদিয়ার স্বাবলম্বী হওয়ার ইচ্ছে ছোট বেলা থেকেই। তাই বুটিকস ও পার্লারের কাজ করে কিছু টাকা সঞ্চয় করেছিলো । নিজের নামে করা ডিপিএস ভেঙ্গে জমানো ৩লক্ষ টাকাও তুলে দেয় নাজমুলকে। এরপর এভাবে চলতে থাকে দুজনার দিন। প্রতিদিনই নিয়ম করে কথা হয় দুজনের ফেসবুক, ইমু ও হোয়াইটস এপে।

সম্প্রতি কয়েক মাস ধরে কেমন যেন বদলাতে থাকে নাজমুল। এখন আর আগের মত ফোন দেয় না। সদিয়া ফোন দিলেও তেমন একটা রিসিভ করে না। চৌদ্দগ্রামের কাশিনগর এলাকায় লোক মারফত খোঁজ নিয়ে নাজমুলের পরিবার তাদের বিয়ের বিষয়টি জানে কিনা জানার চেষ্টা করে সাদিয়া। এতপ যতটুকু বুঝতে পারে নাজমুলের পরিবার এসব বিষয়ে কিছুই জানে না। এরপরই সাদিয়া চাপ দেয় নাজমুলকে তার পরিবারকে জানতে। এতে আরো হিতে বিপরিত হয়। নাজমুল এড়াতে শুরু করে। একেবারেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। বল্ক করে দেয় সাদিয়ার সোশ্যাল মিডিয়া সহ যোগাযোগের অন্যান্য মধ্যমগুলোতে।

দুশ্চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পরেছে নিরুপায় সদিয়া। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম কাশিপুর কিংবা শহরের মুরাদপুর এলাকার প্রফেসর পাড়া’য় স্বামী নাজমুলের বাড়ি থেকে খুলনা সদরের দুরত্ব তো কম নয়। চাইলে একা একজন মেয়ে মানুষ এতো দুরে স্বামীর বাড়িতে আসা যাওয়াটা অনেক কষ্টকর। আর এসেই বা কি হবে বিয়ের কাবিন নামাটাও রয়েছে কক্সবাজার সেই কাজী অফিসে। সেখান থেকে কাবিনের একটি কপি নামজুল নিয়ে নিয়েছে দেবে দেবে বলেও আর দেয়নি তার কাছে। আর তখন কে জানতো এখন ঘটতে পারে জীবনে। আর কাবিনের কপি না হয় পেলো, কিন্তু স্বামীর পরিবার তো তার বিষয়ে কিছুই জানে না, তারা কি ঠাই দেবে নাজমুলের স্ত্রী হিসেবে । এসব ভেবেই মানুষিক ভাবে চরম হতাশায় ভুগছে সাদিয়া। অসুস্থ হতে শুরু করেছে দিনদিন। নিজের পরিবার কে জানিয়েছে তবে তারাও নারাজ তার ওপর। নিজের সীদ্ধান্তে বিয়ে করেছে পরিবারের অজান্তে, তাই নিজেকেই ভাবতে হচ্ছে সব।
সম্প্রতি কয়কদিন আগে নাজমুল দেশে এসেছে বলে জানতে পারেছে সাদিয়া। এছাড়া নাজমুল পুনরায় বিয়ের জন্য পাত্রী দেখছে বলেও জানাতে পারে। এসব জানার পর ব্যাকুল হয়ে ওঠে। নাজমুলের পুরোনো ইমু হোয়াটস এপ সহ বিভিন্ন নাম্বারে ফোন দিতে থাকে, তবে সাড়া মেলে না কোন। আসলেই কি দেশে এসেছে নাজমুল আর এলে কেনইবা এমন করছে? কেন তার সাথে যোগাযোগ করছে না.? কি করবে এখন সাদিয়া ’

মুঠোফোনে প্রতিবেদকে বিস্তারিত জানায় ভুক্তভোগী সাদিয়া, প্রতিবেদকের কাছে সহায়তা কামনা করে কুমিল্লায় স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য। এও জানায়, নিজেকে মানুষিক ভাবে প্রস্তুত করেছে সে, নাজমুল ও তার পরিবার সঠিক ভাবে সম্মানের সহিত স্ত্রী’র মর্যাদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আইনের আশ্রয় নেবে সে।
নাজমুলের সাথে যে নাম্বারে কথা হতো সাদিয়ার সে নাম্বারটিতে ইমু ওয়াটস এপে বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও অপরপ্রান্ত থেকে কেউ রিসিভ করেনি।

Categories: অপরাধ ফলোআপ,কুমিল্লা,প্রধান নিউজ

Tags: