ঈদকে ঘিরে ব্যস্ত দর্জি কারিগররা

ঈদকে ঘিরে ব্যস্ত দর্জি কারিগররা

মশিউর রহমানঃ আর ৮ দিন পর পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদ মানে আনন্দ। ঘরে-ঘরে নতুন জামা-কাপড় পড়ে ঈদ উৎসবকে ভাগাভাগি করবে এটাই স্বাভাবিক। এই দিনটিকে ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যস্ত সময় পার করছেন আশুলিয়ার দর্জিপাড়ার কারিগররা। বাহারি রংয়ের রকমারি থ্রি-পিচ, বোরখাসহ নানা পোশাক তৈরীর জন্য অর্ডার দিতে ভিড় করছেন মহিলারা। জামার সাথে ম্যাচিং করে প্লাজুরও অর্ডার দিতে দেখা গেছে। এটি এখন সকলের কাছে জনপ্রিয়। শিশুদের জন্য বিভিন্ন রংয়ের রকমারি সাজের পোশাকেরেও অর্ডার দিচ্ছেন।

এছাড়া পুরুষরাও শার্ট, প্যাট, পাঞ্জাবী এবং ফতুয়া অর্ডার দিত ছুঁটছেন দর্জিপাড়ায়। শপিং মলের দোকানে মুজুরী একটু বেশী হওয়ায় অনকেই বাইরের মার্কেটগুলোতে ঝুঁকে পড়ছেন। কোন কোন দর্জি দোকানীরা ১০ই রমজান পর্যন্ত অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। আবার কিছু কিছু দোকানীদেরকে এখনও অর্ডার নিতে দেখা গেছে। এসব অর্ডারী পোশাক সময়মত ডেলিভারী দিতে সকাল থেকে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। আশুলিয়ার বিভিন্ন মার্কেটগুলোতে ঘুরে এমনটি দৃশ্য চোখে পড়ে। এ অঞ্চলে কয়ক হাজার দর্জির দোকান রয়েছে।

একদিকে কারিগরদের পা দিয়ে মেশিন চালানোর ঘটঘট শব্দ অন্যদিকে সিজার দিয়ে ফেব্রিক্স কাটাসহ কাটারের অতিরিক্ত সুতা কাটার শব্দ লক্ষ্যণীয়। সামনের দিনগুলোতে এভাবেই চলবে। অতিরিক্ত দর্জি কারিগর নিয়োগ দিয়ে কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত তারা কাজ করছেন । আর তাদের এ ব্যস্ততা থাকবে চাঁদরাত পর্যন্ত। বাহারী পোশাকের দাম একটু বেশী হওয়ায় এবং মাপ ঠিকমত না হওয়ায় পছন্দের পোশাক বানাতে দর্জি দোকানগুলাত ঝুঁকে পড়ছে ক্রেতাসাধারন। দর্জি দোকানে অর্ডারী পোশাক নিতে আসা লিপি বেগম নামের এক গার্মেন্টস কর্মী জানান, সে ঈদের ছুঁটিতে গ্রামের বাড়ীতে যাবেন। তাই রোজার শুরুতেই পোশাক বানানোর অর্ডার দিয়েছেন।

আগে পোশাক নিতেই তিনি দোকানে এসেছেন। আশুলিয়ার বাংলাবাজর এলাকার মামনি টেইলার্স এন্ড ফেব্রিক্স নামে একটি দর্জি দোকানের মালিক দেলোয়ার হোসেন জানান, এবছর ক্রেতারা নানা রংয়ের কাপড় কিনে বাহারী পোশাক বানাচ্ছেন। আমার দোকানে ১২ জন শ্রমিক প্রোডাকশনে কাজ করছেন। আমরা রোযার আগেই অর্ডার নেওয়া শুরু করেছি এবং ১৫ রোযা পর্যন্ত অর্ডার নিয়েছি। এখন আর অর্ডার নিচ্ছি না। আর সব অর্ডারকৃত পোশাক সরবরাহ করতে চাঁদরাত পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাবেন বলে তিনি জানান।

Categories: ঢাকা,ব্যবসা ও অর্থনীতি

Tags: