নতুন অর্থবছরের এডিপি চূড়ান্ত অনুমোদন আজ

নতুন অর্থবছরের এডিপি চূড়ান্ত অনুমোদন আজ

ডেস্ক রিপোর্ট : যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেট চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে আজ। মোট ১৭টি খাতের মধ্যে ১০টি খাত আর ১০টি মন্ত্রণালয় বরাদ্দের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে। সর্বোচ্চ বরাদ্দের ক্ষেত্রে ১০টি খাতের মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ, ভৌত অবকাঠামো, শিক্ষা ও ধর্ম, তথ্যপ্রযুক্তি, পল্লী উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, কৃষি, পানিসম্পদ ও মানবসম্পদ। আর ১০টি সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, সড়ক পরিবহন বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, সেতু বিভাগ ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

চলতি অর্থবছরের মূল আর সংশোধিত এডিপির তুলনায় নতুন অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেটের আকার বাড়ছে। অর্থাৎ মূল এডিপির চেয়ে ২৯ হাজার ৭২১ কোটি টাকা বেশি। আর সংশোধিত এডিপির চেয়ে ৩৫ হাজার ৭২ কোটি টাকা বেশি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটের জন্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ২ লাখ ২৭ হাজার ২১ কোটি টাকা।

আজ শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশন চত্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় এই উন্নয়ন বাজেট চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন পরিষদের চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ১৩ জুন নতুন অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত রাজস্ব বাজেটের সঙ্গে এই উন্নয়ন বাজেট উপস্থাপন করা হবে। পরে তা ৩০ জুন পাস করা হবে। প্রচলিত নিয়মে এনইসিতে এডিপির আকার চূড়ান্ত করা হয়। একই সঙ্গে অনুমোদনও দেওয়া হয়। আজকের এনইসি সভায় সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবরা উপস্থিত থাকবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মোট এডিপির অর্থায়ন কোথা থেকে আসবে তার উৎস ইতোমধ্যে ঠিক করা হয়েছে। মোট এডিপির অর্থায়নে স্থানীয় মুদ্রা থাকছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৯২ কোটি টাকা। আর বাকি ৭১ হাজার ৮০ কোটি টাকা আসবে প্রকল্প সাহায্য থেকে। প্রস্তাবিত নতুন অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দসহ অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পের সংখ্যা ১৪৭৫টি। এর মধ্যে আবার বিনিয়োগ প্রকল্প ১৩৫৮টি আর কারিগরি সহায়ত প্রকল্পের সংখ্যা ১১৬টি।

জানা গেছে, মোট ১৭টি খাতের মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত ১০টি খাতে প্রথমে রয়েছে পরিবহন খাত, যা যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত। যেখানে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৫২ হাজার ৮০৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ এডিপিতে মোট বরাদ্দের ২৬ দশমিক ০৫ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়ার কারণ হিসেবে পরিকল্পনা কমিশন একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে। ব্যাখ্যা অনুযায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পদ্মা সেতুসহ পদ্মা রেল সংযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় এই খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেতে যাচ্ছে বিদ্যুৎ খাত। যেখানে বরাদ্দ থাকছে মোট বরাদ্দের ১২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ এখানে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ২৬ হাজার ১৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা। ভৌত অবকাঠামো বরাদ্দের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। এখানে বরাদ্দের পরিমাণ ২৪ হাজার ৩২৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ মোট বরাদ্দের ১২ শতাংশ। চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে শিক্ষা ও ধর্ম। এখানে বরাদ্দের পরিমাণ ২১ হাজার ৩৭৯ কোটি ১২ লাখ টাকা। অর্থাৎ মোট বরাদ্দের ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এরপরই রয়েছে তথ্য ও প্রযুক্তি। যেখানে বরাদ্দের পরিমাণ হচ্ছে ১৭ হাজার ৫৪ কোটি টাকা। গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনতে আরও বেশি করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য পল্লী উনয়ন্ন ও প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ১৫৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা। স্বাস্থ্যের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ ১৩ হাজার ৫৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। কৃষি খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ৭ হাজার ৬১৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ। নদীভাঙন রোধ এবং নদী ব্যবস্থাপনার জন্য বরাদ্দের পরিমাণ ৫ হাজার ৬৫২ কোটি ৯০ লাখ টাকা। মানবসম্পদ একেবারে দশম স্থানে অবস্থান করছে। যেখানে বরাদ্দের পরিমাণ ৫ হাজার ২৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

এডিপিতে আটটি খাতে আওতাভুক্ত স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য ৮৯টি প্রকল্প রয়েছে। অবশ্য এসব প্রকল্প তাদের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করবে বলে জানা গেছে। এর জন্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ১২ হাজার ৩৯২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। জাপানি ঋণ মওকুফ তহবিল অর্থায়িত একটি প্রকল্প রয়েছে, যেখানে বরাদ্দের পরিমাণ ১১ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

জানা গেছে, বরাদ্দবিহীন এবং এখনও অনুমোদন পায়নি এমনসব প্রকল্পের জন্য বেশকিছু নির্দেশনা থাকতে পারে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বে প্রকল্প থাকতে পারে ৬২টি। চলতি অর্থবছরে জুনে মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্পের ভাগ্য কী হবে, এ ধরনের প্রশ্নে পরিকল্পনা কমিশন একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। আসন্ন জুনে মেয়াদ শেষ হবে এমন প্রকল্পের সংখ্যা ২৭২টি। এসব প্রকল্পের জন্য ১৫ হাজার ৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। তবে চলতি অর্থবছরে শেষ করার জন্য যেসব প্রকল্প আবারও নতুন এডিপিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রস্তাব করা হবে তারও একটি তালিকা সভায় উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে ৫৮টি প্রকল্প আবারও নতুন অর্থবছরে আসতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

এদিকে আজকের সভায় নতুন অর্থবছরে সম্ভাব্য ৩৫৫টি প্রকল্প শেষ করার একটি তালিকা উপস্থাপন করা হতে পারে। নতুন অর্থবছরের এডিপি কী ভ‚মিকা রাখতে পারে তার একটি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের প্রসার, বেশি করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ন। পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়ন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও দারিদ্র্য বিমোচনে এডিপি বিশেষ অবদান রাখবে বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন।

Categories: জাতীয়

Tags: