হবিগঞ্জে প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষিত

হবিগঞ্জে প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষিত

স্টাফ রিপোর্টার : হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় প্রথম শ্রেণিপড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে মুখে গামছা বেঁধে ধর্ষণ করছে এক বখাটে কিশোর। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে নির্যাতনের শিকার শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এ ছাড়া বখাটেকে গ্রেপ্তারে রাতভর অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (১১ মে) দিবাগত রাত ৮টায় উপজেলার পুকড়া ইউনিয়নের কাকুড়া গ্রামে লোমহর্ষক এই ঘটনাটি ঘটে।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় মেয়েটিকে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসক না পাওয়ায় মেয়েটিকে বিনাচিকিৎসায় প্রায় ১ ঘণ্টা হাসপাতালের বেডে রাখা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উল্লেখিত গ্রামের বাসিন্দা রাজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির জনৈক ছাত্রীকে শুক্রবার রাতে মুখে গামছা বেঁধে তুলে দিয়ে যায় একই গ্রামের মৃত আরজত আলীর ছেলে বখাটে জাহাঙ্গীর মিয়া (১৭)। মেয়েটিকে বাড়ির পার্শ্ববর্তী নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর ফেলে রেখে চলে যায়। পরে ওই শিশু অসুস্থ অবস্থায় ঘরে এসে বসে থাকে। কিছুক্ষণ পর তার মামা বাড়িতে এসে রক্তক্ষরণের বিষয়টি দেখতে পান। একপর্যায়ে রাত ১২টায় তাকে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নির্যাতনের শিকার কিশোরীর স্বজনরা জানান, হাসপাতালে আসার পর গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. আরশেদ আলীর সাথে বার বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি আসতে অপারগতা প্রকাশ করেন। প্রায় ১ ঘণ্টা পর ওই ডাক্তারের বাসায় গিয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে অনুরোধ করার পর তিনি এসে মেয়েটিকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহেদী হাসান বলেন. মেয়েটির রক্তক্ষরণ বন্ধ হচ্ছিল না। অবস্থা বেগতিক হওয়ায় তাকে সিলেটে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদ মোবারক বলেন, ঘটনাটি আমাদেরকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। দোষী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে তদন্তপূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে কথা বলতে ডা. আরশেদ আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শারীরিক ইনজুরির কারণে সম্পূর্ণ অচেতন করে মেয়েটিকে চিকিৎসা দিতে হবে। তাই তাকে সিলেটে রেফার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিলম্বে আসার ব্যাপারটি তিনি অস্বীকার করেন।

Categories: অপরাধ ফলোআপ,সিলেট

Tags: