তমা খানের আত্মহত্যার নেপথ্যে

তমা খানের আত্মহত্যার নেপথ্যে

বিনোদন ডেস্ক : শাকিব খানসহ মিডিয়ার অনেকেরই দ্বারস্থ হয়েছিলেন তমা। সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেননি কেউই। তমাকে বোন ডেকেছিলেন শাকিব, রনি গুরু মানত শাকিব খানকে। শাকিব খান সমস্যা সমাধান করে দিলে হয়তো বেঁচেও যেতে পারতেন তমা…

বুধবার স্বেচ্ছায় মৃত্যুকে বরণ করেন নেন মডেল ও অভিনেত্রী তমা খান। তিনি পরিচালক শামীম আহমেদ রনির স্ত্রী ছিলেন। দীর্ঘ দাম্পত্য কলহের জের ধরেই তমা আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন।

তারা বলেন, শেষ দিন পর্যন্ত তমা বাঁচতে চেয়েছিলেন। তমা চেয়েছিলেন নিজের ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে সুখে দিন কাটাবেন। কিন্তু ভালোবাসার মানুষের প্রতারণা তাকে হতাশার সাগরে নিমজ্জিত করেছে।

জানা গেছে, পরিচালক শামীম আহমেদ রনি চিত্রনায়ক শাকিব খানকে ‘গুরু’ হিসেবে মানেন। তমা নিজের সংসার রক্ষা করার জন্য বারবার শাকিব খানের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানা যায়। শাকিব খানকে বারবার ফোন দিলেও শাকিব এড়িয়ে যেতেন তমাকে।

যদিও এক সময় শাকিব খান তমাকে ‘বোন’ বলে ডাকতেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, বোনের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজন বোধ করলেন না তিনি।

শুধু তাই নয়, একটু সমাধানের আশায় মিডিয়ার অনেকেরই দ্বারস্থ হয়েছিলেন তমা। ২০১৬ সাল থেকে তাদের দাম্পত্য কলহ ব্যাপক আকার ধারণ করে। গত তিন বছর ধরেই সম্পর্ক আর সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে গেছেন তমা।

ভালোবেসে বিয়ে

তমার ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন, ২০১০ সালের দিকে ভালোবাসার মানুষ রনিকে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন তমা। পরে ২০১১ সালে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। সেই অনুষ্ঠানে শমী কায়সারসহ অনেক তারকাই উপস্থিত ছিলেন। ২০১৬ পর্যন্ত তাদের সংসার বেশ ভালোভাবেই চলছিল।

যেভাবে দাম্পত্য কলহের শুরু

শামীম আহমেদ রনি প্রথমে নাটক নির্মাণ করতেন। ২০১৪ সালে সিনেমায় পা রাখেন। পারভেজ চৌধুরীর প্রযোজনায় ‘মেন্টাল’ ছবির কাজ শুরু করেন তিনি। প্রথম ছবিতেই শাকিব খানকে নিয়ে কাজ করেন। এ ছবিতে কাজ করতে গিয়েই শাকিব খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে রনির। শাকিব খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে তমারও। সেসময় একসঙ্গে বিভিন্ন পার্টিতে রনির সঙ্গে তমাও উপস্থিত হতেন। শাকিব খান তমাকে বোন বলে সম্বোধন করতেন।

‘মেন্টাল’ ছবির পর রনি শাকিব খানকে নিয়ে কাজ শুরু করেন ‘বসগিরি’ ছবির কাজ। এ ছবিতে রনির হাত ধরে রূপালি পর্দায় আসেন বুবলী। বুবলীর সঙ্গে শাকিবের ঘনিষ্ঠতা বাড়লে অপু বিশ্বাসের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে শাকিব খানের। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেকেরই দাবি শাকিব-অপুর সংসার ভাঙার পেছনে রনির হাত রয়েছে।

শাকিব-অপুর সংসারে ফাটল ধরার অনেক আগে থেকেই বেশ ক’জন মডেল ও নায়িকার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান রনি। তমা নিজেই নানা সময়ে এমন দাবি তুলেছেন। তারই রেশ ধরে ২০১৬ সালের দিকে তাদের সংসারে কলহ দানা বাঁধে। তমা বারবার চেষ্টা করেছেন রনি যেন অন্য মেয়েদের কাছ থেকে ফিরে আসে। এ কারণে তিনি শাকিব খানেরও দ্বারস্থ হন। কিন্তু শাকিব খান এ সমস্যার সমাধানে কোনো উদ্যোগ নেননি।

জানা গেছে, রনি সর্বশেষ প্রেমে পড়েন রোদেলা জান্নাতের। রনির হাত ধরে রোদেলা হয়ে ওঠেন শাকিব খানেরও ঘনিষ্ঠ। নিজের সংসার টিকিয়ে রাখতে তমা দ্বারস্থ হয়েছিলেন রোদেলা জান্নাতেরও। কিন্তু রোদেলাও পাত্তা দেননি তমাকে। এদিকে রনির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা চেয়েও লাভ কোনো লাভ হয়নি। অনেকেই মনে করেন শাকিব খানের কারণেই তমা আইনের দ্বারস্থ হয়েও কিছু করতে পারেননি। তখন চলচ্চিত্র পাড়ায় গুঞ্জন শোনা যায়, পরিচালক নয় বরং শাকিব খানের ‘ম্যানেজার’ হিসেবে উপযুক্ত হয়ে উঠেছেন রনি। আর নিজের ম্যানেজারকে যে করেই হোক রক্ষা করে চলেছেন শাকিব।

রোদেলা জান্নাতসহ একাধিক নারীর সঙ্গে রনির প্রেমের গুঞ্জন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি তমা। আর রনিও তমার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। এমনকি রনি বারবার একাধিক প্রেমের বিষয়টি অস্বীকার করে এসেছেন।

রনির বিরুদ্ধে তমার মামলা

২০১৭ সালের শুরুর দিকে তমাকে নির্যাতন করেন শামীম আহমেদ রনি। তমা নিজের ফেসবুকে সেই নির্যাতনের ঘটনা তুলে ধরেছিলেন। সে সময় জানা গিয়েছিল, স্ত্রী তমাকে ডিভোর্স না দিয়েই সুবর্ণ নামের এক তরুণীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হন রনি। দেন না স্ত্রীর ভরণ-পোষণ ও দাম্পত্যের মর্যাদা। এরপরই রনি তমার কাছে জাল তালাকনামা পাঠায়।এ প্রতারণার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন তমা।

সে সময় এই প্রতিবেদককে তমা বলেছিলেন, ‘আমরা ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম। সবকিছুই দারুণ চলছিল। কিন্তু কিছুদিন পর সে আমার ওপর নানা রকম নির্যাতন করতে শুরু করে। আমি দিনের পর দিন রনির হাতে লাঞ্ছিত হতে থাকি। ও আমাকে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। অসহায় ও হতাশায় আমি আত্মহত্যাও করতে গিয়েছিলাম। আমার অন্যায় হচ্ছে সে অন্য মেয়েদের সঙ্গে অবৈধ মেলামেশা করত, স্ত্রী হিসেবে তার প্রতিবাদ করেছি। বলুন, একজন স্ত্রী হিসেবে চোখের সামনে নিজের স্বামী অন্য মেয়ের অবৈধ মেলামেশা কীভাবে সহ্য করব?’

তমার দাবি ছিল, যখন থেকে শামীম আহমেদ রনি শাকিব খানকে নিয়ে ছবি করতে শুরু করেন তখন থেকেই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। বদলে যায় তার স্বাভাবিক আচরণ। বিভিন্ন ধরনের নারীর সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে তার। বারবার নিষেধ সত্ত্বেও রনি কোনো বারণ শুনেনি।

তখন তমা বলেছিলেন, ‘পরকীয়া নিয়ে আপত্তি তোলায় সে আমার গায়ে হাতও তুলেছে বেশ কয়েকবার। আমি হাসপাতালে থেকে চিকিৎসাও নিয়েছি। সে কথা সবাই জানেন। তবুও আমি চেয়েছি সবকিছু মিটে যাক। স্বামীকে নিয়ে সুখে সংসার করার স্বপ্ন দেখেছি। ভেবেছি ভুল ভাঙলে রনি ফিরে আসবে। কিন্তু মোটেও ব্যাপারটি সে রকম নয়। আমার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সে আরও বেপরোয়া হয়েছে। সবাইকে বলে বেড়াচ্ছে আমাকে ডিভোর্স দিয়েছে সে। অথচ এটি মিথ্যা কথা। আমাদের কোনো ডিভোর্সই হয়নি। নতুন বিয়ে করে অন্য মেয়েকে ঠকানোর ধান্ধায়ই সে এমন মিথ্যা কথা প্রচার করে বেড়াচ্ছে। এতে পরিবার ও সমাজের কাছে আমিও নানা বিব্রতকর প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি। ওর স্ত্রী হিসেবে অনেক অভাব, অভিযোগের সঙ্গে আপস করে আমি ছিলাম। কিন্তু কোনো কিছুরই মূল্য দেয়নি সে। বাধ্য হয়েই আমাকে আইনের সাহায্য নিতে হচ্ছে। আমি আর ওর মতো প্রতারক, ভণ্ডের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না। রনি একটা প্রতারক। নাটক-সিনেমা পরিচালনার নাম ভাঙিয়ে সে মেয়েদের সম্পর্কে ফাঁদ পাতে। বর্তমানে মাহি সেনগুপ্ত নামে কলকাতার এক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক তার। বিয়ের পর আমাকে বলেছিল গান গাওয়াবে। কবির বকুলের লেখা শওকত আলী ইমনের সুর-সংগীতে একটি গানে কণ্ঠও দিয়েছিলাম আমি ‘বসগিরি’ ছবির জন্য। এটি আসলে সে করেছিল পরকীয়া নিয়ে আমার রাগ ভাঙাতে।’

সর্বশেষ মৃত্যুর আগে তমা নিজের ফেসবুকে রনির সঙ্গে ছবি পোস্ট করে লিখেন, ‘মরিলে কান্দিস না আমার দায়’।

Categories: বিনোদন

Tags: