পায়ে ধরেও এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারলো না গোলাপগঞ্জ কাওছারাবাদ কলেজের ৪ শিক্ষার্থী

ফাইল ছবি : পায়ে ধরেও এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারলো না গোলাপগঞ্জ কাওছারাবাদ কলেজের ৪ শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদন : কলেজ কর্তৃপক্ষের চাহিদামত টাকা পরিশোধ করতে না পারায় ৪ পরীক্ষার্থীকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে দেয়নি গোলাপগঞ্জ উপজেলার কাওছারাবাদ কলেজ কর্তৃপক্ষ। এসময় পরীক্ষায় অংশ নিতে কলেজের অফিস সহকারীর পায়ে ধরেও জীবনের এ গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়নি হতভাগা এ শিক্ষার্থীদের। তবে বিষয়টি স্বীকার করে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলছেন, গভণিং বডির নিষেধ থাকায় তাদের পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয় নি।

শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, গোলাপগঞ্জের কোনারচর(শ্রীবহর) এলাকার কাওছারাবাদ কলেজের শিক্ষার্থীর নগরীর আখালিয়া এলাকার সিলেট আইডিয়াল কলেজের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে। ২০১৮ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কাওছারাবাদ কলেজের ৮ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়। ২০১৯ সালে এ ৮ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহনের জন্য ৩৫০০ টাকার মাধ্যমে ১/২ বিষয়ে পরীক্ষা দিতে রেজিস্ট্রেশন করে। যেখানে শিক্ষাবোর্ডের নির্ধারিত ফী ৭৫০ টাকা হলেও অতিরিক্ত ২৭৫০ টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে। গত বুধবার এ ৮ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহনের জন্য প্রবেশ পত্র নিতে কলেজে গেলে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের জানায়।

বিগত ৬ মাসের কলেজের বেতন বাবদ আরো ৩ হাজার টাকা দিতে হবে নয়তো তাদের পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হবে না। এসময় ৫ জন শিক্ষার্থী এ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদেরকে কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর একটি দরখাস্ত দেওয়ার জন্য জানান কলেজের ভারপ্রাপ্ত জামাল উদ্দিন। পরে শিক্ষার্থীরা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছে দরখাস্ত জমা দিলে তিনি তাদেরকে শনিবার সকালে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করে পরীক্ষায় অংশ নিতে বলেন। শনিবার সকালে প্রবেশ পত্র সংগ্রহ করতে গেলে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের টাকা না দিলে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হবে না বলে তাদের কলেজ থেকে বের করে দেন। ফলে গতকাল অনুষ্টিতব্য ইংরেজী ১ম পত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন নি ৪ শিক্ষার্থী। তারা হলেন, জাবেদ আহমদ, শাকিল আহমদ, মনসুুর আহমদ, ঝন্টু পাল।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থী শাকিল আহমদ জানান, গত সপ্তাহে আমরা প্রবেশ পত্র সংগ্রহ করতে কলেজে গেলে তারা আমাদের জানান আরো ৩ হাজার টাকা কলেজে জমা দিতে হবে। টাকা জমা না দিলে আমাদের পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হবে না। পরে এ বিষয়ে আমরা আইডিয়াল কলেজের চেয়ারম্যান নুরু রহমান স্যারকে এ বিষয়টি অবগত করি। তিনি আমাদেরকে জানান, এ বিষয়ে তিনি কোন কথা বলতে পারবেন না। কথা বললে কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে তার সম্পর্কের ব্যাঘাত ঘটবে । পরে আমরা কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের অনুরোধ করে আবেদন করি। তখন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও অফিস সহকারী শাহনুর আমাদেরকে জানান, পরীক্ষার দিন (শনিবার) সকালে এসে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করে পরীক্ষায় অংশ নিতে। কিন্তু গতকাল শনিবার সকালে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে গেলে অফিস সহকারী আমাদেরকে ৩ হাজার টাকা না দিলে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হবে না জানান। পরে আমরা তাকে অনুরোধ করি আজ পরীক্ষায় অংশ না নিলে আমরা আরো ১ বছর পিছিয়ে যাবে। তাতেও তার কর্ণপাত হয়নি। পরে তার কাছে আমরা সন্ধ্যায় সকল টাকা পরিশোধ করবো জানালে তিনি আমাদের দারেয়ান ডেকে কলেজ থেকে বের করে দেন।
এ বিষয়ে পরীক্ষা বঞ্চিত মনসুর আহমদের অসুস্থ পিতা দিলাল উদ্দিন জানান, আমি একজন অসুস্থ মানুষ। অনেক কষ্ট করে ৫ সন্তানকে পড়ালেখা করাচ্ছি। কিন্তু আজ কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করতে না পারায় আমাদের সন্তানের ভবিষৎ নষ্ট করে দিল। পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় আমার ছেলেসহ ২ জন অপ্সান হয়ে পড়ে। আমি আমার ছেলের ভবিষৎ নিয়ে সংকিত। আমাদের প্রশাসনের কাছে এর বিচার চাই।
এ বিষয়ে কলেজের অফিস সহকারী শাহনুর আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি জানান, টাকা না দেওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি তাদের । কলেজ থেকে দারোয়ান দিয়ে বের দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোন ঘটনাই ঘটেনি। তারা আমাদের হুমকি দিয়েছে। কি জন্য হুমকি দিয়েছে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জামাল উদ্দিন জানান, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি গতকাল সকালে কলেজে উপস্থিত ছিলাম না। এ বিষয়ে কলেজের চেয়ারম্যানের ভাগনা শাহনুর সাহেব সব জানেন। পরীক্ষার্থীদের আবেদনের ব্যাপারে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা জোরপূর্বকভাবে আমার কাছে দরখাস্ত দিয়ে গেছে। আমি গ্রহন করিনি। গভনিং বডির ও নিষেধ রয়েছে এ বিষয়ে। তাছাড়া বিষয়ে আমি কলেজের অধ্যক্ষ বর্তমানে লন্ডনে অবস্থানরত এড. রফিক আহমদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি আমাকে জানান, টাকা না দিলে কাউকে যাতে প্রবেশ পত্র না দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ নুরু রহমানের সাথে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এব্যাপারে শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিলেট শিক্ষাবোর্ডের সচিব মোস্তফা কামাল এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এর সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। পরে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

Categories: জাতীয়,প্রধান নিউজ,শিক্ষা বাতায়ন

Tags: