শুকিয়ে যাওয়া পদ্মায় আটকে গেছে কুমির

শুকিয়ে যাওয়া পদ্মায় আটকে গেছে কুমির

বায়েজিদ বোস্তামী,পাবনা : পাবনার সদর উপজেলার চরকোমরপুরে পদ্মা নদীর ক্যানেলে আটকে পড়েছে একটি কুমির। গেলো বর্ষার কোনো এক সময় পথ ভুলে ভেসে আসে কুমিরটি। এরপর পানি নেমে গেলেও আটকে যায় শুকিয়ে যাওয়া পদ্মা নদীতে। ঘটনা জানাজানি হলে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে কুমির দেখতে ভিড় করছে নানা বয়সী মানুষ।

পাবনা শহর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরের গ্রাম চর কোমরপুর। পাশেই পদ্মা নদী। বর্ষার থৈ থৈ জল শুকিয়ে এখন পায়ে হাঁটা পথ। সেই পথে আরো অন্তত ৪ কিলোমিটার দূরে ধু ধু চরের মাঝে ছোট খালে পরিণত হওয়া নদীতেই ভেসে বেড়াচ্ছে একটি কুমির। দুই সপ্তাহ আগে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে কয়েকজন জেলে প্রথম দেখতে পায় কুমিরটিকে। তারপর এ খবর ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। এখন প্রতিদিন কুমির দেখতে ভিড় জমছে নানা বয়সী উৎসুক মানুষ। এত দিন টেলিভিশনের পর্দায় কুমির দেখলেও এই প্রথম সামনাসামনি কুমির দেখতে পেরে উচ্ছ্বসিত স্থানীয়রা। তারা জানান, এ নিয়ে কিছুটা আতংক থাকলেও এখন পর্যন্ত কারো তেমন ক্ষতি করেনি কুমিরটি।

বুধবার সরেজমিনে চরকোমরপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পদ্মার কোলে অনেক মানুষের ভিড়। শিশু, বৃদ্ধ এমনকি নারীরাও এসেছে কুমির দেখতে। জামাল হোসেন নামে একজন জানান, কয়েকদিন আগে পদ্মা নদীর চরে বরশি নিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে হঠাৎ কুমিরটি মাথা তুলতে দেখেন। ভয়ে তিনি বরশি ফেলে দৌঁড়ে এসে সবাইকে খবর দেন। এরপর অনেকে কুমির দেখেছে।

আবুল হোসেন ও দিলবার হোসেন নামের দুই জেলে জানান, তারা চরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। ১৫ দিন আগে এখানে কুমির দেখা যায়। তারা এখন অন্য জায়গায় মাছ ধরেন। এখানে ভয়ে কেউ মাছ ধরে না। জমিরন বেওয়া বলেন, জীবনে কখনো সামনে থেকে কুমির দেখেননি। তাই দেখতে এসেছেন। তিনি অনেকক্ষণ বসে থেকে একবার দেখতে পেয়েছেন। বেশ বড়সড় কুমির।

খবর জানতে পেরে কুমিরের ছবি তুলতে পদ্মার কোলে কয়েক দিন ধরে ভিড় করছেন অনেক আলোকচিত্রী। তাদের একজন পাবনার প্রাকৃতিক আলোকচিত্রী সুপ্রতাপ চাকী। জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিন দিন ধরে এখানে আসছেন ছবি তুলতে। অবশেষে বুধবার কুমিরের ভালো ছবি তুলতে সক্ষম হয়েছেন। প্রাকৃতিক প্রাণীকে প্রাকৃতিক পরিবেশে সংরক্ষণ করা দরকার। কুমিরটির যেন ক্ষতি না হয়, সেদিকে সবার দৃষ্টি রাখা উচিত।

জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন জানান, কুমির উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খবর দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় বনকর্মকর্তাকে এ ব্যাপারে অনুরোধ করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ে কুমিরটি উদ্ধার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। সেই পর্যন্ত স্থানীয়দের ধৈর্য্য ধারণের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

সামাজিক বন বিভাগ পাবনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পাবনার বন বিভাগ ও রাজশাহী বিভাগীয় বণ্যপ্রাণী বিভাগের কর্মকর্তারা ওই স্থান পরিদর্শন করেছেন। জায়গাটা মুলত পদ্মার সংশ্লিষ্ট ক্যানেল। যেখানে কুমিরটি বর্তমানে ভালো অবস্থায় আছে। পানির গভীরতাও অনেক। সেখানে কুমিরের থাকা বা খাওয়ার কোনো সমস্যা হবে না। শুকনো মৌসুমেও এখানে পানি একেবারে শুকায় না। তাই ভয়ের কিছু নেই। আগামী বর্ষায় সে পুনরায় ফিরে যেতে পারবে।

স্থানীয় একাধিক সুত্র জানায়, পদ্মার এখানে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। এ এলাকার দখল নিয়ে ইতিপূর্বে প্রভাবশালী দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। বর্তমানে কুমির থাকায় সেখানে কেউ মাছ ধরতে পারছেন না। সরকারিভাবে সরিয়ে না নিলে কুমিরটিকে মেরে ফেলা হতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে।

Categories: রাজশাহী

Tags: