নেতৃত্ব থাকছে জিয়া পরিবারেই : হাল ধরবে কে?

জিয়া পরিবারেই থাকছে নেতৃত্ব, হাল ধরবে কে?

ডেস্ক রিপোর্ট : জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি, এমনটাই শোনা যাচ্ছে। তবে প্রশ্ন থেকে যায় এই দলের নেতৃত্ব নিয়ে। কে হাল ধরবে বিএনপির?। বিএনপি চেয়ারপরসন বেগম খালেদা জিয়া ৫ বছরের দন্ড নিয়ে জেলে। হাইকোর্টের বিচারও রয়েছে শেষ পর্যায়ে। বিচারক ১৫ অক্টোবরের মধ্যে শুনানি শেষ করতে বলেছেন। অন্যদিকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরেই লন্ডনে রয়েছেন। সম্প্রতি বহুল আলোচিত গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে যাবজ্জীবন কারাদÐ হয়েছে, এর আগেও দুটি মামলায় সাজা পান তারেক। এমন বাস্তবতায় দলের হাল ধরা নিয়ে নানা মহলে বিস্তর আলোচনা হচ্ছে। তারেক রহমানের পদত্যাগের প্রশ্নও উঠেছে। কিন্ত পদত্যাগের বিষয়টি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে বিএনপি।

বিএনপির একটি সূত্র বলছে, এখনও দলের নেতৃত্ব নিয়ে বড় শঙ্কা কাজ করছে না। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হলে বিষয়টি আমলে নেবে বিএনপি। অন্য একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, ইতোমধ্যেই এ বিষয়টি নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা হচ্ছে। গণমাধ্যমেও বেশ ফলাও করে আসছে তারেক রহমানের স্ত্রী ডাক্তার জোবায়দা রহমানের কথা। শোনা যাচ্ছে, বিএনপিতে পরবর্তী নেতৃত্ব দেবেন তিনি। তবে এ নিয়ে এখনও মুখ খোলেনি দলের হাইকমান্ড।
দলটির কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলায় লন্ডনে বসে কৌশলী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তারেক রহমান। সঙ্গে রয়েছেন জোবায়দা রহমানও। দলের বিপদের সময় তারেক রহমানের পরিবর্তে জিয়া পরিবারের বাইরে কাউকে নেতৃত্ব দিতে নারাজ দলের সিনিয়র নেতারা। আবার তারাও দলের হাল ধরতে নারাজ। এছাড়া বেশিরভাগ সিনিয়র নেতাই বিভিন্ন মামলায় জর্জরিত। এদিকে বিএনপি বড় একটি ঐক্যজোট করছে কয়েকটি ছোট ছোট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে।

সম্প্রতি বিএনপি দাবি করে, ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বিএনপির ১ হাজার ৫১২ জন হত্যাকাÐের শিকার হয়েছে। গুম হয়েছে ১ হাজার ২০৪ জন। অবশ্য গুমদের মধ্যে থেকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী ৭৮১ জনকে গ্রেফতার দেখিয়েছে। বিএনপির হিসেবে, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে ‘গায়েবি’ মামলা হয়েছে ৪ হাজার ১৪৯টি। এর মধ্যে জ্ঞাত আসামির সংখ্যা ৮৬ হাজার ৬৯২ এবং অজ্ঞাত আসামি ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৭৭ জন। জেল-হাজতে আসামির সংখ্যা ৭৫ হাজার ৯২৫ জন। আসামির তালিকায় দলের শীর্ষ নেতারাও রয়েছে।

নেতৃত্ব সংকটের কথা মুখে স্বীকার না করলেও বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠিকই বলছেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে দÐিত করা হয়েছে মূলত বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য। সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্যই আদালতকে ব্যবহার করে মিথ্যা মামলায় শীর্ষ দুই নেতাকে সাজা দিয়েছেন।

বিএনপির বর্তমান দলীয় প্রধান প্রসঙ্গে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহবায়ক ড. কামাল হোসেন বলেন, বিএনপির দলীয় প্রধান কে, তা দেখে দলটির সঙ্গে ঐক্য হয়নি। ঐক্য প্রক্রিয়ায় বিএনপির দণ্ডিত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে সামান্যতম যোগাযোগও নেই। তবে তার এ অবস্থানের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, এ রায়ের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে বিএনপির সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ হয়েছে। এবং বিএনপির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যের নেতাদের গাঁটছড়া সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করারই মতোই। একুশে আগস্টে গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে ভারপ্রাপ্ত দলীয় প্রধান দণ্ডিত হওয়ার পরে বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তারা বলছেন সন্ত্রাসী চিহ্নিত কেউ যদি প্রধান হয় সে দলের সঙ্গে জোট করা সন্ত্রাসবাদকেই সমর্থন দেবার শামিল।
এই বৈরি অবস্থায় কার নেতৃত্বে বিএনপি আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হবে, তা একটি বড়ো প্রশ্ন। তারেক না জোবায়দা, এই আলোচনা আরো আগেই শুরু হয়েছে। এদিকে বেগম জিয়াকে হাসপাতালে আনার পর তার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকার স্ত্রী শর্মিলা দেশে ফিরে এসেছেন। তিনিও সম্ভাব্য নেতৃত্বের জায়গায় থাকছেন কিনা, এ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে দলের ভেতরেবাইরে।

Categories: তথ্য প্রযুক্তি,প্রধান নিউজ,রাজনীতি

Tags: