ঈশ্বরদীতে জেলা প্রশাসকের সাথে জাতীয় পদক প্রাপ্ত ও স্থানীয় কৃষকদের মতবিনিময়

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ॥ ঈশ্বরদীর জাতীয় পদক প্রাপ্ত ও স্থানীয় কৃষকদের সাথে পাবনা জেলা প্রশাসক মতবিনিময় করেছেন। শহরের অরণ কোলায় মওলা কৃষি খামারে গতকাল কৃষক ও জেলা প্রশাসকের এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা প্রশাসক মোঃ জসিম উদ্দীন। মতবিনিময় স্থল কৃষকের উৎপাদিত সবজি ও ফলমূল দিয়ে মনোমুগ্ধকর ভাবে সাজানো ছিল।
বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটি ঈশ্বরদী উপজেলা সভাপতি আবুল হাসেমের সভাপতিত্বে কৃষকদের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটি কেন্দ্রিয় সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক ছিদ্দিকুর রহমান কূল ময়েজ, বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক জাহিদুল ইসলাম গাজর জাহিদ, বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত কৃষক বেলী বেগম, বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক আশরাফ আলী খান ডুবুরী, বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক হাবিবুর রহমান মৎস্য হাবিব, বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক আলহাজ্ব রবিউল ইসলাম, সিআইজি ঈশ্বরদী উপজেলা সভাপতি মুরাদ মালিথা, কৃষক রেজাউল ইসলাম, মৎস্য চাষি আবু তালেব জোয়াদ্দার, কবির মালিথা, শিল্পী বেগম, মোঃ আজগর মল্লিক, হাবিবুর রহমান, আব্দুস সাত্তার, তোরাব জোয়াদ্দার, মহসিন আলী ও সাইদার হোসেন বাবুসহ ঈশ্বরদীর বিভিন্ন স্তরের কৃষকেরা। এছাড়া আর ও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আল-মামুন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকতা হাসান ইমাম ও সাংবাদিক স্বপন কুমার কুন্ডু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটি কেন্দ্রিয় সাধারন সম্পাদক আব্দুল জলিল কিতাব মন্ডল।
বক্তারা বলেন, কৃষকেরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল উৎপাদন করে থাকেন। কিন্তু সেই ফসল হাট-বাজারে বিক্রি করতে গেলে ন্যায্য মূল্য পাওয়া যায়না। কৃষকের উৎপাদিত সকল পণ্যেই বর্তমানে লোকশান হচ্ছে। এরপর তা হাট-বাজারে বিক্রি করতে গেলে খাজনার নামে ইজারাদারের লোকেরা কৃষকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন শতকরা দশ টাকা। কৃষি পণ্য বিক্রির পর কৃষকের কাছ থেকে খাজনা নেয়া সরকারের পক্ষ থেকে নিষেধ থাকলেও ইজারাদারের লোকেরা বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে তাদের ইচ্ছে মতো অধিকমাত্রায় খাজনা আদায় করছেন।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সরকার হচ্ছে কৃষি বান্ধব সরকার, এই সরকারের আমলে কোন কৃষককে সারের জন্য গুলি থেয়ে মরতে হয়নি। কিন্তু সরকার কর্তৃক রাসায়নিক সারের মূল্য নির্ধারনের পরেও ব্যবসায়িরা কৃষকদের কাছ থেকে বস্তা প্রতি দুই থেকে পাঁচশত টাকা বেশি নিচ্ছেন। সরকার কর্তৃক সারের মূল্য নির্ধারন করা থাকলেও তা পাবনা জেলার কোন ডিলার মানছেন না। ভেজাল কীটনাষকে ছেয়ে গেছে পুরো দেশ। চড়া মূল্যে ভেজাল কীটনাষক কিনে তা ব্যবহার করে কৃষক পদে পদে প্রতারিত হচ্ছে। মাঠ থেকে ভটভটিতে করে কৃষি পণ্য হাটে আনতে পুলিশ বাধা সৃষ্টি করে এতে কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। কাঁচা মালের ট্রাক থেকে পুলিশ প্রকাশ্যে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছেন। কৃষি বীমা ও কৃষি হিমাগারের জোর দাবি তোলেন।

Categories: কৃষি সংবাদ,প্রধান নিউজ,রাজশাহী

Tags: